পাতা:গল্পসল্প - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পসল্প পায়তারা করতে পারে । আমাদের তাক লেগে গেল — আলেকজাণ্ডার এসেছিলেন ভারত জয় করতে । রণতুর্ধর্ষ বিদায় নিতে এলেন মুক্তকুন্তলার কাছে । মুক্তকুন্তলা বললেন, যাও বীরবর, যুদ্ধে জয়লাভ করে এসো, আলেকজাণ্ডারের মুকুট এনে দেওয়া চাই আমার পায়ের তলায়। যুদ্ধে মারা পড়লেও পাবে তুমি স্বৰ্গলোক, আর যদি বেঁচে ফিরে এস তো স্বয়ং আছি আমি । , উঃ, কতবড়ো চটপট হাততালির জায়গা একবার ভেবে দেখো । আমি রাজী হলেম মুক্তকুন্তলা সাজতে, কেননা আমার গলার আওয়াজটা ছিল মিহি । আমাদের দালানের পিছন দিকে খানিকটা পোড়ো জমি ছিল, তাকে বলা । হত গোলাবাড়ি । সত্যিকার ছেলেমানুষের পক্ষে সেই জায়গাটা ছিল ছুটির স্বর্গ। সেই গোলাবাড়ির একটা ধারে আমাদের বাড়ির ভাড়ার ঘর, লোহার গরাদে দেওয়া ; সেই গরাদের মধ্যে হাত গলিয়ে বস্তার ফঁাকের থেকে ডাল চাল কুড়িয়ে আনতুম। ইটের উনুন পেতে কাঠকোঠ জোগাড় করে চড়িয়ে দিতুম ছেলেমানুষী খিচুড়ি। তাতে না ছিল মুন, না ছিল ঘি, না ছিল কোনোপ্রকার মসলার বালাই। কোনোমতে আধসিদ্ধ হলে খেতে লেগে যেতুম। মনে হয় নি ভোজের মধ্যে নিন্দের কিছু ছিল। এই গোলাবাড়ির পাচিল ঘেষে গোটাকতক বাখারি জোগাড় করে হ, চ. হ, আমাদের বিখ্যাত নাট্যকার, নানা আয়তনের খবরের কাগজ জুড়ে জুড়ে একটা স্টেজ খাড়া করেছিলেন। স্টেজ শব্দটা মনে করেই আমাদের বুক ফুলে উঠত। এই স্টেজে আমাকে সাজতে হবে মুক্তকুন্তলা। সব কথা স্পষ্ট মনে নেই, কিন্তু হতভাগিনী মুক্তকুন্তলার দুঃখের দশ কিছু কিছু মনে পড়ে। এইটুকু জানি, তিনি তলোয়ায় হাতে বীরপুরুষের সঙ্গে যোগ দিতে গিয়েছিলেন ঘোড়ায় চড়ে । কিন্তু, ঘোড়াটা যে কার সাজবার কথা ছিল সে ঠিক মনে আনতে পারছি নে। যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে বীরললন যে ○ケ