পাতা:গল্পসল্প - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মুক্তকুন্তল৷ স্বদেশের জন্যে প্রাণ দিয়েছিলেন, তাতে সন্দেহ নেই। তার বুকে যখন বর্শ ( পাতকাঠি ) বিদ্ধ হল, যখন মাটিতে র্তার মুক্ত কুন্তল লুটিয়ে পড়ছে, রণদুর্ধর্ষ পাশে এসে দাড়ালেন । বীরাঙ্গনা বললেন, বীরবর, আমাকে এখন বিদায় দাও, হয়তো স্বর্গে গিয়ে দেখা হবে । আহা, আবার হাততালির পালা। অভিনয়ের জোগাড়যন্ত্র মোটামুটি এক রকম হয়ে এসেছিল। হরিশ্চন্দ্র কোথা থেকে এনেছিলেন নানা রকমের পরচুলে গোফদাড়ি। বউদিদির হাতে পায়ে ধরে দুটাে-একটা শাড়িও জোগাড় করেছিলুম। র্তার কোটা থেকে সিছর নিয়ে সিথেয় পরবার সময় কোনো ভাবনা মনে আসে নি। স্কুলে যাবার সময় ভুলেছিলুম তার দাগ মুছতে। ছেলেদের মধ্যে মস্ত হাসি উঠেছিল। কিছুদিন আমার ক্লাসে মুখ দেখাবার জো রইল না। নাটকের অভিনয়ে সব চেয়ে ফল দেখা গেল এই হাসিতে। আর, বাকিটুকু হয়ে গেল একেবারে ফাকি। যেখানে আমাদের স্টেজের বাখারি পোতা হয়েছিল ঠিক সেই জায়গায় সেজদাদা কুস্তির আখড়া পত্তন করলেন। মুক্তকুন্তলার সব চেয়ে দুঃখের দশা হল যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, এই কুস্তির আড্ডায়। রণদুর্ধর্ষকে মিহি গলায় বলবার সুযোগ পেলেন না, হে বীরবর, স্বর্গে তোমার সঙ্গে হয়তো দেখা হবে । তার বদলে বলতে হল, সাড়ে নটা বাজল, স্কুলের গাড়ি তৈরি। এর থেকেই বুঝবে, আমরা যখন ছেলেমানুষ ছিলেম সে ছিলেম খাটি ছেলেমানুষ । >>