পাতা:গল্পসল্প - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


* রাজার বাড়ি ইরু গিয়েছে হস্ত-দস্তর মাঠে যখন আমি ঘুমোতুম। সেখানে পক্ষীরাজ ঘোড়া চ'রে বেড়ায়, মানুষকে কাছে পেলেই সে একেবারে উড়িয়ে নিয়ে যায় মেঘের মধ্যে । আমি হাততালি দিয়ে বলে উঠতুম, সে তো বেশ মজ । সে বলত, মজা বৈকি ! ও বাবা । কী বিপদ ঘটতে পারত শোনা হয় নি, চুপ করে গেছি মুখের ভঙ্গী দেখে । ইরু দেখেছে পরীদের ঘরকন্না— সে বেশি দূরে নয়। আমাদের পুকুরের পুব পাড়িতে যে চিনে বট আছে তারই মোটা মোটা শিকড়গুলোর অন্ধকার ফঁাকে ফঁাকে। তাদের ফুল তুলে দিয়ে সে বশ করেছিল। তারা ফুলের মধু ছাড়া আর কিছু খায় না । ইরুর পরী-বাড়ি যাবার একমাত্র সময় ছিল দক্ষিণের বারান্দায় যখন নীলকমল মাস্টারের কাছে আমাদের পড়া করতে বসতে হত । ইরুকে জিগ গেস করতুম, অন্য সময়ে গেলে কী হয় । ইরু বলত, পরীরা প্রজাপতি হয়ে উড়ে যায়। আরো অনেক-কিছু ছিল তার অবাক-করা ঝুলিতে। কিন্তু, সবচেয়ে চমক লাগাত সেই ন-দেখা রাজবাড়িটা । সে যে একেবারে আমাদের বাড়িতেই, হয়তো আমার শোবার ঘরের পাশেই । কিন্তু, মন্তর জানি নে যে। ছুটির দিনে দুপুর বেলায় ইরুর সঙ্গে গেছি আমতলায়, কাচা আম পেড়ে দিয়েছি, দিয়েছি তাকে আমার বহুমূল্য ঘষা ঝিনুক । সে খোসা ছাড়িয়ে শুলপো শাক দিয়ে বসে বসে খেয়েছে কাচা আম, কিন্তু মন্তরের কথা পাড়লেই বলে উঠেছে, ও বাবা ! তার পরে মন্তর গেল কোথায়, ইরু গেল শ্বশুরবাড়িতে, আমারও রাজবাড়ি খোজ করবার বয়স গেল পেরিয়ে— ঐ বাড়িটা রয়ে গেল গর-ঠিকানা। দূরের রাজবাড়ি অনেক দেখেছি, কিন্তু ঘরের কাছের রাজবাড়ি— ও বাবা । ২৩