পাতা:গল্পসল্প - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বড়ো খবর রাখেন না। সেইজন্তেই উনি হলেন বড়োলোক । তুমি ঠিক করে দাও কার কদর বেশি। আমরা যদি ছোটোলোক হই তবে জোট বেঁধে কাজে ইস্তফা দেব, দেখি তুমি নৌকো চালাও কী করে। মাঝি দেখলে বিপদ, দাড় কটাকে আড়ালে টেনে নিয়ে চুপিচুপি বললে, ওর কথায় কান দিয়ে না ভায়ারা। নিতান্ত ফাপা ভাষায় ও কথা বলে থাকে। তোমরা জোয়ানরা সব মরি-বাচি করে না খাটলে নৌকো একেবারে অচল। আর, ঐ পাল করেন র্যাক বাবুয়ানা উপরের মহলে। একটু ঝোড়ো হাওয়া দিয়েছে কি উনি কাজ বন্ধ করে গুটি-মুটি মেরে পড়ে থাকেন নৌকোর চালের উপরে। তখন ফৰ্ড ফন্ড্রানি বন্ধ, সাড়াই পাওয়া যায় না। কিন্তু, সুখে-দুঃখে বিপদে-আপদে হাটে-ঘাটে তোমরাই আছ আমার ভরসা। ঐ নবাবির বোঝাটাকে যখন-তখন তোমাদের টেনে নিয়ে বেড়াতে হয়। কে বলে তোমাদের ছোটোলোক । মাঝির ভয় হল, কথাগুলো পালের কানে উঠল বুঝি। সে এসে কানে কানে বললে, পাল-মশায়, তোমার সঙ্গে কার তুলনা । কে বলে যে তুমি নেীকে চালাও, সে তো মজুরের কর্ম। তুমি আপন ফুর্তিতে চল আর তোমার ইয়ারবক্সির তোমার ইশারায় পিছন-পিছন চলে। আবার ঝুলে পড় একটু যদি ছাপ ধরে। ঐ দাড়গুলোর ইংরমিতে তুমি কান দিয়ে না, ভায়া, ওদের এমনি ক’ষে বেঁধে রেখেছি যে যতই ওদের ঝপ ঝপানি থাক্‌-না কাজ না করে উপায় নেই। শুনে পাল উঠল ফুলে। মেঘের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাই তুলতে লাগল। কিন্তু, লক্ষণ ভালো নয়। দাড়গুলোর মজবুত হাড়, এখন কাত হয়ে আছে, কোন দিন খাড়া হয়ে দাড়াবে, লাগাবে ঝাপটা, চৌচির হয়ে যাবে পালের গুমর। ধরা পড়বে দাড়েই চালায় নৌকো— ঝড় হোক, ঝাপটা হোক, উজান হোক, ভাটা হোক ।