পাতা:গল্পসল্প - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পসল্প কখনো সারে ? তিনি নিজে থাকেন কপনি পরে। এক পয়সা সম্বল নেই। এ-সব লম্বাচওড়া বুলি তাকেই সাজে। আমরা গেরস্থ মানুষ, শুনে চক্ষুস্থির হয়ে যায়। এ দিকে আর-এক নতুন ফন্দি বেরিয়েছে জানেন তো ? ঐ-যে যাকে আপনার বলেন চাদা। তার মুনফ কম নয়। কিন্তু সেটা তলিয়ে যায় কোথায়, তার হিসাব রাখে কে। মশায়, সেদিন আমারই ঘরে এসে উপস্থিত অনাথ-হাসপাতালের চাদ চাইতে । লজ্জা হয়, কী আর বলব। খাত হাতে যিনি এসেছিলেন আপনার সবাই তাকে জানেন। ডাক্তার— আর নাম করে কাজ নেই, কে আবার তার কানে ওঠাবে। তিনি যে মাঝে মাঝে আসেন আমাদের ঘরে নাড়ী টিপতে। সিকি পয়সা দিতে হয় না বটে, তেমনি সিকি পয়সার ফলও পাই নে। তবু হাজার হোক, এম. বি. তো বটে। এমনি হাল আমলের তার চিকিৎসা যে রোগীরা তার কাছে ঘেষে না । কাজেই টাকার টানাটানি হয় বৈকি। ছি ছি, কী বলছ তুমি । তা মশায়, আমি মুখফোঁড় মানুষ । সত্যি কথা আমার বাধে না। ওঁর মুখের সামনেই শুনিয়ে দিতে পারতুম। কিন্তু কী বলব, আমার ছেলেটাকে আদায়ের কাজে রেখে আমার মুখ বন্ধ করেছেন। তার কাছ থেকেও মাঝে মাঝে ইশারা পাই। দক্ষিণ হস্ত বেশ চলছে ভালো। বুঝছেন তো? আমাদের দেশে আজকালকার ইংরমি যে কিরকম অসহ, তার আর-একটা নমুনা আপনাকে শোনাই । কিরকম । আমাদের পাড়ায় আছে একটা গোমুখু যাকে ওরা নাম দিয়েছে কবিবর। তাকে দিয়ে দেখুন আমার নামে কী লিখিয়েছে। ঘোর লাইবেল। নিন্দুকের দল পাকিয়েছে। পাড়ায় কান পাতবার জো নেই। খ্যাক্শিয়ালি বলে চেঁচাচ্ছে আমার vరి:R