পাতা:গল্পসল্প - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রাজরানী কাল তোমার ভালো লাগে নি চণ্ডীকে নিয়ে বকুনি। ও একটা ছবি মাত্র। কড়া কড়া লাইনে আঁকা, ওতে রস নাই । আজ তোমাকে কিছু বলব, সে সত্যিকার গল্প । কুসমি অত্যন্ত উৎফুল্ল হয়ে বলল, হঁ্যা হ্যা, তাই বলে । তুমি তো সেদিন বললে, বরাবর মানুষ সত্যি খবর দিয়ে এসেছে গল্পের মধ্যে মুড়ে । একেবারে ময়রার দোকান বানিয়ে রেখেছে। সন্দেশের মধ্যে ছানাকে চেনাই যায় না । দাদামশায় বললে, এ না হলে মানুষের দিন কাটত না । কত আরব্যউপন্যাস, পারস্য-উপন্যাস, পঞ্চতন্ত্র, কত কী সাজানো হয়ে গেল । মানুষ অনেকখানি ছেলেমানুষ, তাকে রূপকথা দিয়ে ভোলাতে হয়। আর ভূমিকায় কাজ নেই। এবার শুরু করা যাক — এক যে ছিল রাজা, তার ছিল না রাজরানী । রাজকন্যার সন্ধানে দূত গেল অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গ মগধ কোশল কাঞ্চী । তারা এসে খবর দেয় যে, মহারাজ, সে কী দেখলুম। কারু চোখের জলে মুক্তো ঝরে, কারু হাসিতে খসে পড়ে মানিক। কারু দেহ চাদের আলোয় গড়া— সে যেন পূর্ণিমারাত্রের স্বপ্ন । রাজা শুনেই বুঝলেন, কথাগুলি বাড়িয়ে বলা, রাজার ভাগ্যে সত্য কথা জোটে না অনুচরদের মুখের থেকে । তিনি বললেন, আমি নিজে যাব দেখতে । সেনাপতি বললেন, তবে ফৌজ ডাকি ? রাজা বললেন, লড়াই করতে যাচ্ছি নে । মন্ত্রী বললেন, তবে পাত্ৰ-মিত্রদের খবর দিই ? VOS