পাতা:গল্পসল্প - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মুনশী এই ছিল তার বিশ্বাস। একবার বক্তৃতার আসরে নাবলে সুরেন্দ্র বাড়ুজ্জেকে দেশছাড়া করতে পারতেন কেবল যদি ইচ্ছে করতেন । কোনোদিন তিনি ইচ্ছে করেন নি। বিষ্ণুর রুটি বেঁচে গেল, স্বরেন্দ্রনাথের নামও । কেবল কথাটা উঠলে মুনশী একটু মুচকে হাসতেন। কিন্তু, মুনশীর ইংরেজি ভাষায় দখল নিয়ে আমাদের একটা পাপকর্মের বিশেষ সুবিধা হয়েছিল। কথাটা খুলে বলি। তখন আমরা পড়তুম বেঙ্গল অ্যাকাডেমিতে, ডিক্রূজ সাহেব ছিলেন ইস্কুলের মালিক। তিনি ঠিক করে রেখেছিলেন, আমাদের পড়াশুনো কোনোকালেই হবে না। কিন্তু, ভাবন কী । আমাদের বিদ্যেও চাই নে, বুদ্ধিও চাই নে, আমাদের আছে পৈতৃক সম্পত্তি। তবুও তার ইস্কুল থেকে ছুটি চুরি করে নিতে হলে তার চলতি নিয়মটা মানতে হত। কর্তাদের চিঠিতে ছুটির দাবির কারণ দেখাতে হত। সে চিঠি যত বড়ো জালই হোক, ডিক্রূজ সাহেব চোখ বুজে দিতেন ছুটি ৷ মাইনের পাওনাতে লোকসান না ঘটলে তার ভাবনা ছিল না । মুনশীকে জানাতুম ছুটি মঞ্জুর হয়েছে। মুনশী মুখ টিপে হাসতেন। হবে না ? বাস রে, তার ইংরেজি ভাষার কী জোর । সে ইংরেজি কেবল ব্যাকরণের ঠেলায় হাইকোর্টের জজের রায় ঘুরিয়ে দিতে পারত। আমরা বলতুম ‘নিশ্চয় । হাইকোর্টের জজের কাছে কোনোদিন তাকে কলম পেশ করতে হয় নি । কিন্তু, সব চেয়ে তার জাক ছিল লাঠি-খেলার কারদানি নিয়ে । আমাদের বাড়ির উঠোনে রোদছর পড়লেই তার খেলা শুরু হত । সে খেলা ছিল নিজের ছায়াটার সঙ্গে। হুংকার দিয়ে ঘা লাগাতেন কখনো ছায়াটার পায়ে, কখনো তার ঘাড়ে, কখনো তার মাথায় । আর, মুখ তুলে চেয়ে চেয়ে দেখতেন চারি দিকে যারা জড়ো হত তাদের দিকে । সবাই বলত, সাবাস্ ! বলত, ছায়াটা যে বর্তিয়ে আছে সে ছায়ার বাপের ভাগ্যি । এই থেকে একটা কথা 8 (t