পাতা:গল্পসল্প - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পসল্প এখনো সামান্য কিছু বাকি আছে। ঐ শিলট তিব্বতের লামার কালিম্পঙের হটে বেচতে নিয়ে আসে ধবলেশ্বর পাহাড় থেকে । পঞ্চাননদাদ এপার থেকে ওপার পর্যন্ত টাকে হাত বুলিয়ে বললেন, এটা কিছু শক্ত ঠেকছে। প্রোফেসার বললেন, শক্ত কিছুই নয়। সন্ধান করলেই পাওয়া যাবে। মনে মনে ভাবলুম, সন্ধান করাই চাই, ছাড়া হবে না— তার পরে শিল নিয়ে কী করতে হবে। রোসো, অল্প একটু বাকি আছে। একটা দক্ষিণাবর্ত শঙ্খ চাই । পঞ্চাননদাদ বললেন, সে শঙ্খ পাওয়া তো সহজ নয় । যে পায় সে যে রাজা হয় । হ্যাঃ, রাজা হয়, না মাথা হয় । শঙ্খ জিনিসটা শঙ্খ । যাকে বাংলায় বলে শাখ। সেই শঙ্খটা আমড়ার আঁঠি দিয়ে, শিলের উপর রেখে, ঘষতে হবে। ঘষতে ঘষতে আঁঠির চিহ্ন থাকবে না, শঙ্খ যাবে ক্ষয়ে। আর, শিলট। যাবে কাদা হয়ে । এইবার এই পিণ্ডিটা নিয়ে দাও বুলিয়ে দেয়ালের গায়। বাস্। একেই বলে দ্রব্যগুণ । দ্রব্যগুণেই দেয়ালটা দেয়াল হয়েছে। মন্তরে হয় নি। আর দ্রব্যগুণেই সেটা হয়ে যাবে ধোয়া, এতে আশ্চর্য কী । আমি বললুম, তাই তো, কথাটা খুব সত্যি শোনাচ্ছে । পঞ্চাননদাদা মাথায় হাত বোলাতে লাগলেন বসে বসে বা হাতে হুকোট ধ’রে । আমাদের সন্ধানের ক্রটিতে এই সামান্য কথাটার প্রমাণ হলই না। এতদিন পরে ইরুর মন্তর, তন্তর, রাজবাড়ি, মনে হল সব বাজে। কিন্তু, অধ্যাপকের দ্রব্যগুণের মধ্যে কোনোখানেই তো ফাকি নেই। দেয়াল রইল নিরেট হয়ে । অধ্যাপকের পরে আমাদের ভক্তিও রইল অটল হয়ে । কিন্তু, একবার দৈবাৎ কী মনের ভুলে দ্রব্যগুণটাকে নাগালের মধ্যে এনে ফেলেছিলেন । বলেছিলেন, (t ૨