পাতা:গল্পসল্প - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૭૨

আমি যখন ছোটাে ছিলুম, ছিলুম তখন ছোটাে ; আমার ছুটির সঙ্গী ছিল ছবি-আঁকার পোটো। বাড়িটা তার ছিল বুঝি শঙ্খী নদীর মোড়ে, নাগকন্যা আসত ঘাটে শাখের নৌকো চড়ে । চাপার মতো আঙুল দিয়ে বেণীর বাঁধন খুলে ঘন কালো চুলের গুচ্ছে কী ঢেউ দিত তুলে । রৌদ্র-আলোয় ঝলক দিয়ে বিন্দুবারির মতো মাটির পরে পড়ত ঝরে মুক্ত মানিক কত । নাগকেশরের তলায় বসে পদ্মফুলের কুঁড়ি দূরের থেকে কে দিত তার পায়ের তলায় ছুড়ি। একদিন সেই নাগকুমারী বলে উঠল, কে ও । জবাব পেলে, দয়া করে আমার বাড়ি যেয়ো । রাজপ্রাসাদের দেউড়ি সেথায় শ্বেত পাথরে গাথা । মণ্ডপে তার মুক্তা-ঝালর দোলায় রাজার ছাতা । ঘোড়সওয়ারী সৈন্য সেথায় চলে পথে পথে, রক্তবরন ধ্বজ ওড়ে তিরিশ-ঘোড়ার রথে । আমি থাকি মালঞ্চেতে রাজবাগানের মালী, সেইখানেতে যুর্থীর বনে সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বালি । রাজকুমারীর তরে সাজাই কনকচাঁপার ডালা, বেণীর বাধন-তরে গাথি শ্বেত করবীর মালা ।