পাতা:গল্পসল্প - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গল্পসল্প সন্ধ্যা হয়েছে, পথিক চলেছেন গোরুর গাড়িতে করে। পরদিন সকালে রাজমহলে পৌছলে নেীকে নিয়ে তিনি যাত্রা করবেন পশ্চিমে । তিনি রাজপুত, তার নাম অরিজিৎ সিংহ। বাংলাদেশে ছোটাে কোনো রাজার ঘরে সেনাপতির কাজ করতেন। ছুটি নিয়ে চলেছেন রাজপুতনায়। রাত্রি হয়ে এসেছে। গাড়িতে বসে বসে ঘুমিয়ে পড়েছেন। হঠাৎ একসময় জেগে উঠে দেখলেন, গাড়ি চলেছে বনের মধ্যে । গাড়োয়ানকে বললেন, ঘাটের রাস্ত ছেড়ে এখানে কেন । গাড়োয়ান বললে, আমাকে চিনলেই বুঝবেন কেন। তার পাগড়িটা অনেকখানি আড় ক’রে পরা ছিল । সোজা ক’রে পরতেই অরিজিৎ বললেন, চিনেছি। ডাকাতের সর্দার পরাক্রম সিংহের চর তুমি। অনেকবার তোমার হাতে পড়েছিলুম, এড়িয়ে এসেছি। সে বললে, ঠিক ঠাওরেছেন, এবার এড়াতে পারছেন না। চলুন আমার মনিবের কাছে । অরিজিৎ বললেন, উপায় নেই, যেতেই হবে। কিন্তু, তোমাদের ইচ্ছে পূর্ণ হবে না । গাড়ি চলল বনের মধ্যে। এর আগের কথাটা এবার খুলে বলা যাক । অরিজিৎ বড়ো ঘরের ছেলে । মোগল সম্রাট তার রাজ্য নিলে কেড়ে, তিনি এলেন বাংলাদেশে পালিয়ে। এখান থেকে তৈরি হয়ে একদিন তার রাজ্য ফিরে নেবেন, এই ছিল তার পণ । এ দিকে পরাক্রম সিং মুসলমানদের হাতে র্তার বিষয়সম্পত্তি হারিয়ে ডাকাতের দল বানিয়েছিলেন। র্তার মেয়ের বিবাহের বয়স হয়েছে ; অরিজিতের সঙ্গে বিবাহ হয়, এই ছিল তার চেষ্টা । কিন্তু, জাতিতে তিনি অরিজিতের সমান দরের ছিলেন না, তার ঘরের মেয়েকে বিবাহ করতে অরিজিৎ রাজী নন । bre