পাতা:গল্পসল্প - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মুক্তকুন্তল৷ আমার খুদে বন্ধুরা এসে হাজির তাদের নালিশ নিয়ে ; বললে, দাদামশায়, তুমি কি আমাদের ছেলেমানুষ মনে কর। তা, ভাই, ঐ ভুলটাই তো করেছিলুম। আজকাল নিজেরই বয়েসটার ভুল হিসেব করতে শুরু করেছি। ኜ রূপকথা আমাদের চলবে না, আমাদের বয়েস হয়ে গেছে । আমি বললুম, ভায়া, রূপকথার কথাটা তো কিছুই নয়। ওর রূপটাই হল আসল। সেটা সব বয়েসেই চলে। আচ্ছা, ভালো, যদি পছন্দ না হয় তবে দেখি খুজে-পেতে। নিজের বয়েসটাতে ডুব মেরে তোমাদের বয়েসটাকে মনে আনতে চেষ্টা করছি। তার থলি থেকে রূপকথা নাহয় বাদ দিলুম, তার পরের সারে দেখতে পাই মৎস্যনারীর উপাখ্যান । সেও চলবে না। তোমরা নতুন যুগের ছেলে, খাটি খবর চাও ; ফস করে জিজ্ঞেস করে বসবে, লেজ যদি হয় মাছের, মুড়ো কী করে হবে মানুষের ! রোসো, তবে ভেবে দেখি । তোমাদের বয়েসে, এমন-কি, তোমাদের চেয়ে কিছু বেশি বয়েসে আমরা ম্যাজিকওয়ালা হরিশ হালদারকে পেয়ে বসেছিলুম। শুধু তার ম্যাজিকে হাত ছিল না, সাহিত্যেও কলম চলত। আমাদের কাছে সেও ছিল ম্যাজিক-বিশেষ। আজও মনে আছে একটা ঝুলঝুলে খাতায় লেখা তার নাটকটা, নাম ছিল মুক্তকুন্তলা । এমন নাম কার মাথায় আসতে পারে ! কোথায় লাগে সূর্যমুখী, কুন্দনন্দিনী । তার পর তার মধ্যে যা-সব লম্বা চালের কথাবার্তা, তার বুলিগুলো শুনে মনে হয়েছিল, এ কালিদাসের ছাপ-মারা মাল। বীরাঙ্গনার দাপট কী ! আর, দেশউদ্ধারের তাল ঠোকা । নাটকের রাজপুত্রটি ছিলেন স্বয়ং পুরুরাজের ভাগ্নে ; নাম ছিল রণদুর্ধর্ষ সিং । এও একটা নাম বটে, মুক্তকুন্তলার নামের সঙ্গে সমান ר < SWO