পাতা:গল্পস্বল্প.djvu/৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।


গল্পস্বল্প।

 

 

মনুষ্য জীবনের উদেশ্য।

আমরা সকলেই জানি মনুষ্য পশু হইতে শ্রেষ্ঠ। কিন্তু ভাবিয়া দেখ—কিসে? পশুরও শরীর আছে, মনুষ্যেরও শরীর আছে; মনুষ্যের আকার পশু হইতে ভিন্ন বটে, কিন্তু আকারের প্রভেদেই যে, কেহ শ্রেষ্ঠ হয় তাহা নহে। পশুদিগেরও সকলের ভিন্ন ভিন্ন আকার। মনুষ্যের ন্যায় পশুদিগেরও ক্ষুধা, তৃষ্ণ, ক্রোধ, দ্বেষ, স্নেহ, ভালবাসা আছে, এমন কি জন্তুদিগের মধ্যে বুদ্ধিরও পরিচয় পাওয়া যায়। তবে মানুষকে পশু অপেক্ষ শ্রেষ্ঠ বলা যায় কেন? মানুষের এমন কতকগুলি গুণ আছে যাহা পশুতে পাওয়া যায় না—সেই গুণেই মানুষ বড়। পশুর যদিও বুদ্ধি আছে, কিন্তু মানুষের ন্যায় উচ্চ বুদ্ধি নাই, চিন্তা-শক্তি নাই, মানুষের মত ধর্ম্মভাব নাই। চিন্তাবলে, বুদ্ধিবলে মানুষ ভাল হইতে মন্দের প্রভেদ বুঝিতেছে, কল কৌশল উদ্ভাবন করিতেছে, পৃথিবীতে বসিয়া সূর্যের সংবাদ আনিতেছে। ধর্মের ভাব আছে বলিয়া মানুষ ঈশ্বরানুরাগী হইতেছে, কুপ্রবৃত্তিকে দমন করিতেছে এবং সমস্ত জগৎবাসীকে সেই এক জগৎপিতার সন্তান জ্ঞানে পরোপকারে রত হইতেছে, অন্তের মঙ্গলে নিজের মঙ্গল জ্ঞান করিয়া নিঃস্বার্থতার কাছে স্বার্থ জলাঞ্জলি দিতেছে। এই সকল গুণের জন্যই মানুষ পশু হইতে শ্রেষ্ঠ। কিন্তু যাহার এ সকল গুণ বিকশিত হয় নাই, যে অজ্ঞান,—যাহার ধর্ম্মভাব নাই, পশুর সহিত তাহার বিশেষ প্রভেদ নাই। সুতরাং কেবল মানুষের শরীর