পাতা:গল্পাঞ্জলি.djvu/২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


> 。 গল্পাঞ্জলি হেমাঙ্গিনী তাহার চক্ষু মুছাইতে মুছাইতে অশ্রুগদগদ কণ্ঠে বলিল— “ছি—অমন কথা তুমি কেন বলছ ? সৰ্ব্বস্ব গেছে—গেছেই, তুমি ভাল হও—সৎপথে থাক—আবার কত হবে । ওঠ—বিছানায় চল। জামাটা ছেড়ে ফেল, ভিজে গেছে।” নলিনী অসহায় বালকটির মত স্ত্রীর হস্তে আত্মসমপণ করিল । বস্ত্রাদি পরিবর্তনের পর শয্যায় শয়ন করিয়া বলিল—“এ বাড়ী ছেড়ে দেবার জন্তেও নোটিস দেবে। এ বাড়ীও তার হয়ে গেছে। তার পর, গাছতলায় পড়ে, অনাহারে আমাদের মৃত্যু।” হেমাঙ্গিনী বলিল—“না না—তুমি ভেব না। বাড়ী থেকে উঠে যেতে হয় যাব, তার আর কি ? দেশে গিয়ে থাকুব ।” “দেশে না হয় একখানা ভাঙ্গা ফুটাে বাড়াই আছে—বিষয়সম্পত্তি ত নেই। খাব কি ?” “সে জন্তে তুমি কিছু ভেব না । ভগবানের রাজ্যে কেউ কি না খেয়ে মরে ? গাছের পার্থীকে, বনের পশুকে, জলের মাছকে যিনি আহার যোগাচ্ছেন—তিনি কি আমাদের না খেয়ে মরতে দেবেন ? কখনই না।” নলিনী নয়ন মুদ্রিত করিয়া কিয়ৎক্ষণ চিন্তা করিল। শেষে ধীরে ধীরে বলিল—“গাছের পাখী, বনের পশু কি মদ খাবার জন্যে স্ত্রীর গায়ের গহনা কেড় নেয় ?” “ত নেয় না সত্যি । তুমি আর মদ খেওনা--তুমি ভাল হও—আবার কত হবে। আমি আজ পাচ বচ্ছর সকালে সন্ধ্যে হরির তলায় কত মাথা খুঁড়েছি—কত ঠাকুর দেবতাকে মানত করেছি—যাতে তোমার সুবুদ্ধি হয়—আমার সে সব প্রার্থনা কি নিষ্ফল হবে ? এত কষ্টের পরও কি দেবতারা আমার পানে মুখ তুলে চাইবেন না ? তুমিও ভগবানকে ডাক-অবিশুি তার দয়া হবে। আবার সব হবে। তোমার পায়ে পড়ি,