পাতা:গল্পাঞ্জলি.djvu/২৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাল্যবন্ধু సిసి যখন বলছ, তখন যাই, গিয়ে একবার বলে কয়ে দেখি । সময় বাড়িয়ে নেওয়া মিছে । কোথা পাব আমি টাকা যে একবছর কি কুবছর পরে শোধ করব ? দেখি ঘদি ভাড়াটে বাড়ী হখানি নিয়েই সে সন্তুষ্ট হয়— এ বাড়ীখানি আমার ছেড়ে দেয় ।”—বলিয়া নলিনী যাইতে প্রস্তুত হইল । হেমাঙ্গিনী বলিল—“একটু জল মুখে দিয়ে যাও—কাল রাত্তির থেকে কিছু খাওনি।”—বলিয়া দুইটি সন্দেশ আর এক গেলাস জল আনিয়া দিল। বাক্স খুলিয়া হেমাঙ্গিনী ট্রামের পয়সা বাহির করিতেছিল । নলিনী জিজ্ঞাসা করিল—“আর কত আছে ?” “স-তিন টাকা ।” “থাক—ট্রামের পয়ল কায নেই—ঠাণ্ডায় হেঁটেই যাব এখন।” হেমাঙ্গিনী একটি দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলিয়া বাক্স বন্ধ করিল। নলিনী যখন পদব্রজে ভবানীপুরে বিপিনবাবুর ফটকের সম্মুখে উপস্থিত ছইল, তখন নয়ট বঙ্কিয়া গিয়াছে। দ্বারবানের নিকট শুনিল, বাবু বাড়ীতেই আছেন । অনেক সাধ্যসাধনার পর দারোয়ানজি নলিনীর আগমনসংবাদটা জানাইতে স্বীকৃত হইল। ক্রমে নলিনীর ডাক পড়িল । বিপিনবাবু তখন মীচের তালার বারান্দার প্রান্তবত্তী কক্ষখানিতে, টেবিলের সম্মুখে বসিয়া সংবাদপত্র পাঠ করিতেছিলেন। পাশ্বে আধপেয়াল ঠাণ্ড চা পড়িয়া ছিল—পেয়ালার কানায় দুই তিনটা মাছি ঘুরিয়া বুড়াইতেছিল | নলিনীকে প্রবেশ করিতে শুনিয়াও প্রথমটা বিপিনবাবু সংবাদপত্র মইতে চক্ষু উঠাইলেন না। একটু অপেক্ষা করিয়া নলিনী বলিল— "বিপিনদী।” বিপিনবাবু তখন চক্ষু তুলিলেন। দেখিলেন নলিনীর বেশে আর সে ৰ্ব্বেকার পারিপাট্য নাই। চুলগুলা উড়িতেছে। তিন দিন না কামাইয়