পাতা:গল্পাঞ্জলি.djvu/৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ՆՀ গল্পাঞ্জলি বেলা দশটা বাজিলে নলিনী স্নান করিল | খোকার জন্ত, খুকীর জন্য, নলিনীর জন্ত তিনখানি আসন পাতা হইয়াছে। তিন জনে খাইতে বসিল । দরিদ্র গৃহস্থের দৈনন্দিন আহাৰ্যা দ্রবা-বেশী কিছু নয়। খোকাখুকী খুব আমোদ করিয়াই খাইতে লাগিল । নলিনী ভাত খাইতেছে—জারে মাঝে মাঝে খোকাথুকির পানে চাহি তেছে। কেবল তাহার মনে হইতেছে, বেশী দিন আর এখানে বসিয়ু ইহারা ভাত খাইবে না । নলিনী আজ ভাল করিয়া আহার করিতে পারিল না । কোনও মতে আধ খাওয়া করিয়া, স্ত্রীর মিনতিসত্ত্বেও উঠিয়া পড়িল । জাহারাস্তে শয্যায় গিয়া, নলিনী শয়ন করিয়া রহিল। হেমাঙ্গিনী নিজে স্নানাহার শেষ করিয়া, শয্যায় বসিয়া স্বামীর পদসেবা করিতে লাগিল । নলিনীর ঘুম আদিল না । বেলা দুইটা অবধি এইরূপ ছটফট করিয়া, পে উঠিয়া বসিল । তামাক সাজিবে বলিয়া কলিকা হাতে করিল ! হেমাঙ্গিনী তাহার হাত হইতে কলিকা কাড়িয়া লইয়া তামাক সাজিয়া দিল । নলিনী তামাক খাইতে লাগিল, হেমাঙ্গিনী অনতিদূরে পাণ সাঞ্জি বার সরঞ্জাম সম্মুখে রাখিয়া, বসিয়া স্থপারি কাটিতে লাগিল । তামাক শেষ করিয়া, দীর্ঘনিশ্বাসের সহিত নলিনী বলিল—“কৈ-- আজ্ঞ ও ত নোটিস টোটস্ কিছু এল না । কাল এক বৎসর পূর্ণ হয়ে গেছে ।” হেমাঙ্গিনী বলিল—“তোমার এ বিপদ—চাকরিটি পর্য্যন্ত গেল, তা' কি বিপিনবাবু শোনেন নি ? এমন সময় তিনি কখনই বাড়ী ছেড়ে উঠে যেতে বলবেন না। শরীরে একটুও ত দয়ামায়া আছে ?” নলিনী বলিল—“খুব দয়ামায়া আছে! বোধ হয় কাযের ভিড়ে ভুলে গেছে—আজ কি কাল নোটিস্ আসবে দেখে নিও।”