পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/১১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>Obf গল্প-গ্রন্থবালী মিলন । তখন ব্রজমাধববাবর মনে হইয়াছিল, জীবনের বাকি সারাটা পথই বুঝি এই মত কুসমোস্তৃতই রহিবে—এই সৌরভময়ী লাবণ্য সরসীতে সতরণ করিয়াই জীবনটা বুঝি কাটিবে ! সেদিন কে জানিত যে, এমন দিনের মখেও আবার দেখিতে হুইবে । আশা ত অনেকই ছিল, কোনটাই বা পরিয়াছে ? ব্রজমাধববাবরে পিতা, বয়সে প্রবীণ হইলেও, নিতান্ত সেকেলে লোক ছিলেন না। বৈবাহিক নিজ ব্যয়ে জামাতাকে বিলাতে পাঠাইয়া, অক্সফোড বা কেরিজে তাহার পষ্ঠ সমাপন করাইয়া, ব্যারিস্টার করিয়া আনিবেন, হাইকোটে প্রথম কয়েক বৎসর অথানকেল্যে তাহার ব্যবসায়ের সুবিধা করিয়া দিবেন, এক্ট আশাতেই এখানে পত্রের বিবাহ দিয়াছিলেন। বিবাহের পর ছয় মাস কাটিতে না কাটিতেই সহসা হাটফেল হইয়া তাঁহার মৃত্যু—তার পর প্রকাশ হইল, নিজ পত্রগণের তরণ কন্ধে তিনি চাপাইয়া গিয়াছেন—লক্ষাধিক টাকার ঋণ ! রজমাধবরাবরে আশা ভরসা সমস্তই ফসর্ণ হইয়া গেল। কোথায় তিনি হইবেন চৌরঙ্গি বা অন্ততঃ বালিগঞ্জ-বিলাসী ব্যারিস্টার, নিজস্ব মোটরগাড়ীতে বসিয়া হাইকোটে আসিয়া সগাব পদক্ষেপে বার-লাইব্রেরীতে প্রবেশ করিবেন, না, তিনি হইয়াছেন মাসিক দেড়শত মনদ্রা বেতনে বেসরকারী কলেজের বিনয়নম্ন অধ্যাপক ! ট্রাম আরোহণে কলেজে যান— ‘ফরেন পদব্রজে। শ্যামবাজারে একটি গলির ভিতর তাঁহার বাসা ; ঝি পাছে পয়সা চরি করে বলিয়া, প্রতিদিন প্রাতে বহস্তে বাজার করিয়া থাকেন । পত্র কন্যা জন্মে নাই তাই রক্ষা নহিলে কলিকাতা সহবে এই অলপ বেতনে, গ্রাসাচ্ছাদন নিৰ্বাহ হওয়াই কঠিন হইত। আজ রবিলার, কলেজ নাই। সত্ৰীও গহে নাই—ভবানীপ,বে, তাহার পিরালয়ে। নিনতলে নিজন বৈঠকখানায বসিয়া ব্ৰজমাধনবাব অপর চিন্তাসাগরে নিমগ্ন। “খন ? না, সন্ন্যাস অবলম্ববন ? কি করি ? এ অবসথায় কি করা উচিত ? কি করা কত্তব্য ?” এটা তিনি স্থির করিয়াছেন, ঝোঁকের মাথায় কিছু করিয়া বসিবেন না—যাহা করিতে হয়, বেশ ধীরভাবে, ঠাণ্ডা মাথায়, ভাবিয়া চিন্তিয়া—তার পর। সহসা ব্ৰজমাধববাব ডাকিলেন, “ঝি।” ঝি কলতলায় বাসন মাজতেছিল; উত্তর দিল, কেন বাবা ?” একবার এদিকে এস ত ।”—বলিয়া ব্ৰজবাব এক টুকরা কাগজে কি লিখিতে লাগিলেন। ঝি বাসনমাজ ফেলিয়া রাখিয়া, তাড়াতাড়ি হাত ধইয়া বসাঞ্চলে হাত মুছিতে সুছিতে বৈঠকখানায় আসিয়া প্রবেশ করিল। ব্ৰজবাব তাহার হাতে কাগজখানি দিয়া বলিলেন, “ঐ যে ১৮ নম্বরে উকীল বিপিনবাব থাকেন, তাঁর কাছে চিঠিখানা নিয়ে যাও ত ! একখানা বই দেবেন, নিযে এস।” ঝি চিঠি লইয়া প্রস্থান কবিল। পাঁচ সাত মিনিট পরেই, চামড়ায় বাবা একখানা মোটা বহি আনিয়া প্রভুর টেবিলের উপর রাখিয়া সবকায্যে চলিয়া গেল। বহিখানি, “ভারতবষীয় দণ্ডবিধি আইন।” ব্ৰজবাব সেখানি খালিয়া, তাহার সদেীর্ঘ সচীপত্র পবীক্ষা করিতে লাগিলেন। পরে, যে পাঠায় নরহত্যা অপরাধের বর্ণনা আছে, সেই পৃষ্ঠা খালিয়া অভিনিবেশ সহকারে পাঠ করিতে লাগিলেন। জটিল বিষয়, অনেকক্ষণ ধরিয়া পাঠ করিলেন। আইনজ্ঞ নহেন, তাঁহার ধারণা ছিল, অসতী সীকে হত্যা করলে ফাঁসি হয় না—জেল হয়, বড় জোর বীপান্তর হয়। অনেকক্ষণ পাঠ করিয়া কৰিলেন, তাহা ঠিক নহে। হাতে-নাতে ধরিয়া তদন্ডে খন করিলে ফাঁসি হয় না DS DDDD DDS BBBD DBBB DDDD DBBS BBD BBB BB DDD তার স্মীর চরিত্রে সন্দিহান হইয়া, তাহাকে ধরিবার অভিপ্রারে, রায়ে শয্যায় নিদ্রার ভাণ করির্যা পড়িয়া ছিল। অনেক রায় হইলে, সী ধীরে ধীরে শয্যাত্যাগ করিল, বারের