পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/১৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>切rbf গল্প-গ্রন্থাবলী ও সন্দেশ খাওয়াইতে লাগিল। হেমন্ত খাটের উপর বসিয়া, ঘুমন্ত খাকীকে কোলে তুলিয়া লইয়া তাহার মুখে চমো খাইতে খাইতে বলিতে লাগিল, “মা—আমায় বাবা বললে যে, আমি তোর বাবা নই!—এই বলে বাছা আমার সেদিন কোদেছিল। আমি তোর বাবা নই—বলতে আমার বকটা ফেটে গিয়েছিল রে, তা কি তুই জানিস ?”—বলিয়া হেমন্ত ঘুমন্ত মেয়েকে বকে চাপিয়া ধরিল। পরদিন বেলা ১oটার ট্রেণে দত্ত মহাশয় আসিয়; উপস্থিত হইলেন। সমস্ত ব্যাপার শনিয়া তিনি কিছুক্ষণ সতভিত হইয়া বসিয়া রহিলেন । প্রথমটা জামাতার উপর মনে মনে তাঁহার খাব রাগ হইল—কিন্তু শেষে যখন শুনিলেন, সম্প্রতি ইংলিসম্যানে চাকরী করার কথাটা কল্পিত হইলেও, প্রথমে কথিত দালালী ব্যবসায়টা খাঁটি সত্য, সে ব্যবসায় বিশেষ জাঁকালো রকমের, এবং সে ব্যবসায় হইতে বাবাজীউ বৎসরে লক্ষাধিক টাকা উপাত্তজন করিয়া থাকেন; তখন তাহার সমস্ত রাগ জল হইয়া গেল । পরদিন দত্ত মহাশয় জাম। তবে জিজ্ঞাস করিলেন, “আচ্ছা বাবাজী, প্রথম যখন তোমার সঙ্গে আমার দেখা তখন তুমি পবিচফাঁট গোপন করেছিলে কেন ?" হেমন্ত বলিল, “আজ্ঞে না । নিন্ম লাঞ্চে বাড়ী নিয়ে যাবার জন্যে গঙ্গার ঘাটে আপনি যখন পালকী এনেছিলেন, আপনি আমার নাম জিজ্ঞাসা করলেন, আমি এখন আমার প্রকৃত নামই বলেছিলাম—হেমন্তকুমার বসু। বাড়ী নিয়ে গিয়ে আপনি আমায় বসন্ত বসন্ত বলে ডাকতে লাগলেন। আমি প্রতিবাদ করিনি কারণ তা করার কোনও দবকার মনে করিনি।" গরীব সেজেছিলে কেন ?” “আজ্ঞে, কুলীন কায়েথের ছেলে, ৩০ বছর বয়স হয়েছে, গরীব না সজলে, তত দিন পৰ্য্যন্ত আইবড় থাকার কৈফিয়ৎ কি দিই - আর প্রকৃত কথা জানলে আপনি কি আর সতীনের উপর মেয়ে দিতেন ?” নিমালা এক দীঘ পত্রে সহাসিনীকে সমস্ত ব্যাপার জানাইল । শেষে লিখিল, ‘তুমি বাহা অনুমান কবিধাছিলে, ত হাই সত্য হইয়া দাড়াইল--উনি রাত্রে চাকলী করিতে যাইতেন না;—আমাকে বোকা বুঝাইয়া হাওয়া থাইতেই যাইতেন বটে। তবে সৌভাগের বিষয যে, উহা বিশশধ বায়, দাষত হাওসা নহে!" পবলোকগতা পত্নীর শ্রান্ধীক্লয়া শেষ না হওয়া পয্যন্ত নিন্ম-লাকে হেমন্ত এই পাড়ীতেই রাখিল। তাহার পর একটা ভাল দিন দেখিয়া হেমন্তের জননী তাঁহার নতন বউকে আনাইয়া বরণ করিযা ঘরে তুলিলেন। ডোরা বাত্রি ৯টার সময় হ্যারিসন রোড হইতে একখানি ট্যাক্সি আসিয়া, পটলডাঙ্গার একটি গলির মধ্যে প্রবেশ করিল। আরোহিণী—দুইটি তরণী। একজনের মাথায় হ্যাট, অঙ্গে ইংরাজী গাউন , অপরটির পরিধানে শাড়ী—কিন্তু পায়ে জনতা-মোজাও অাছে। হাটধারিণী সামনে ব:কিয়া শোফেয়াবকে বলিল, “ডেখো, ২০ নম্বর কাঁহা ?” -জি হজব”—বলিয়া চালক গাড়ীর গতিবেগ কমাইল, এবং উভয পাশেবর বাড়ীগলের নম্বরের প্রতি দটি রাখিয়া চলিল। অবশেষে ২০ নম্বর দেখিতে পাইয়া, সেই