পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/১৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


tool Sbషి ৰাড়ীর সামনে গাড়ী থামাইল। শাড়ীপরা মেয়েটি মেম-জনোচিত উচ্চারণে তাহার সঙ্গিনীকে ইংরাজীতে বলিল, “ডক্টর রবিনসন ২০ নম্বরই বলিয়াছিলেন ত? আমার কিন্তু স্মরণ নাই।” অপরা যাবতী বলিল, “হ্যাঁ-২০ নম্বর বলিয়াছিলেন আমার ঠিক মনে আছে।” শোফেয়ার ট্যাক্সির দরজা খলিয়া দিল। উভয়ে তখন নামিয়া সদর দরজার নিকট গিয়া দাঁড়াইল। শাড়ীপরা মেয়েটি দরজার কড়া নাড়িতে লাগিল। কয়েক মহেক্তে পরে একজন খোট্টা চাকর আসিয়া দরজা খালিয়া দিল। শাড়ীধারিণী জিজ্ঞাসা করিল, “এই বাড়ীতে রোগী আছে ?” “আজ্ঞে হাঁ ৷” “ডক্টর রবিনসন চিকিৎসা করছেন ?” “আজে, মেটিয়া কলেজের ডাংদার সাহেব ইলাজ করছেন।” “হ্যাঁ ঠিক। বলগে, ডাক্তার সাহেব আমাদের পাঠিয়ে দিয়েছেন। আমরা নাস ।" "বহুৎখ।" বলিয়া ভূত্য চলিয়া গেল। গাউনপরা মেয়েটি তখন রাস্তায় নামিল । ট্যাক্সির ভাড়া দিয়া উহাকে বিদায় করিয়া আবার সঙ্গিনীর পাশে আসিয়া দাঁড়াইল । শাড়ীপরা মেয়েটির বয়স বোধ হয় উনিশ-কুড়ি হইবে,—রঙটি বেশ ফস"। অন্য মেয়েটির বয়স পঁচিশ-ছাবিবশের কম নয়—হ্যাট ও গাউন পরিলে কি হইবে--রঙটি তাহার কালো, তবে, “গদাধরের পিসীর" মত কালো নহে বটে। অলপক্ষণ পরেই ভূতা ফিরিয়া সসম্প্রমে বলিল, “আসন।” যাবতীন্বয় ভূত্যের পশ্চাৎ পশ্চাৎ চলিল। বাড়ীখানি বিদ্যুৎ আলোকে আলোকিত। নিতান্ত নতন না হইলেও বেশী পরাতন নহে। উঠানটি জঞ্জাল ভত্তি নহে—সিড়ির দেওয়ালে পাণের পিক নাই—বেশ পরিকার পরিচ্ছন্ন, ঝক-ঝক তক-তক করিতেছে। যাবতীবয় বিতলের বারান্দায় পেপছিয়া দেখিল, বিশ বাইশ বছরের এক যুবক, একটা আধ-ময়লা টাইল-সার্ট গায়ে দিয়া দাঁড়াইয়া আছে। সে অগ্রসর হইয়া আসিয়া ইংরাজীতে বলিল, “ডস্ট্রর রবিনসন কি আপনাদের পাঠাইয়া দিয়াছেন ?” ইংরাজী বেশধারিণী বলিল, “হাঁ । তিনিই আমাদের পাঠাইয়াছেন। এ বাড়ীর কত্তা কে ?” যবেক উত্তব করিল, “যিনি কত্তা, তিনিই অসপথ।" “ফৗজ সম্বন্ধে আমরা তবে কাহার সঙ্গে কথাবাত্ত কহিব ?” “আমার সঙ্গেই কহনে ৷” “আপনি তাঁর পত্র বঝি ?" যুবক ঈষৎ হাসিয়া উত্তর করিল, "না, আমি তাঁর বন্ধু—তিনি আমারই সমবয়সী। তিনি নিজ অধিকারে একজন জমীদার—মৈমনসিং জিলার অধিবাসী—এখানে থাকিয়া বিজ্ঞান কলেজে এম এস-সি পাঠ করিতেছেন।” . এই পরিচয় শনিয়া যাবতীবয়ের মনে যেন একটা সম্প্রমের ভাব উদয় হইল। শাড়ীপরা মেয়েটি এবার বাঙ্গালায় জিজ্ঞাসা করিল, “কত দিন জবর হয়েছে ?” “আজ এগারো দিন ।” t_. “বাড়ীর মেয়েছেলেরা সব কোথায় ?” “এ বাড়ীতে মেয়েছেলেরা কেউ থাকে না। এটা ত বাসা-বাড়ী কিনা! আমিও থাকি অন্য বাসায়। তবে, এ ক দিন এখানেই রয়েছি, নইলে রোগীকে দেখে শোনে কে ?” “রোগী কোথায় ? কোন ঘরে ? চলন, রোগীকে আমরা দেখি।” যবেক উভয়কে লইয়া সেই বারান্দার প্রান্তস্থিত একটি কক্ষে গিয়া প্রবেশ করল। পালকের উপর একটা রেশমী চাদরে আবত হইয়া তেইশ চব্বিশ বৎসর বয়সের এক