পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২০৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


పిపిఆ - গল্প-গ্রন্থাবলী க' BBSDDD DDBB DD BBBBDBB BB DD DDD DDDBB DDDS রাম হাসির্তে হাসিতে বলিল, “বেশ হয়েছে দিদি-বেশ হয়েছে। ও আমি আগে দেখেছি—মামাবাব যে দিন সায়েব-বাড়ী থেকে কিনে আনেন, সেই দিনই আমি দেখেছি। বেশ মানিয়েছে দিদির হাতে।” ডোরা বলিল, “মামাবাব কিনে এনেছিলেন বুঝি ? ওs—তাই বুঝি সে দিন সকালে চা খাওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, “আমি বাজারে যাচ্ছি জিনিষ কিনতে r—তোমরা ভিতরে ভিতরে বঝি এই ষড়যন্ত্রটি পকিয়েছিলে ?” নিরঞ্জন বালুল, “রামরেই ত দোষ। আমি মামাবাবকে বললাম ডোরা আমার এত সেবা করলে, যাবার সময় ওকে ত কিছু উপহার দেওয়া উচিত। মামা বললেন, একটা চেক দেওয়া যাবে। রাম সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, ও বললে, না না, ও সব চাঁকচোঁকে দরকার নেই। যে হাতে দিদিমণি তোমার আত সেবাটা করলে, সে হাত দুখানি সোণা দিয়ে বাঁধিয়ে দাও। তাই ত ব্রেসলেট কেনা পরামর্শ হ’ল।” ডোরা বলিল, “তাই বুঝি r আমাকে কিছু বলা হ’ল না! বললে, আমি মামাবাবর সঙ্গে যেতাম; নিজে দেখে পছন্দ করে কিনতাম, আরও হয়ত কত সব ভাল ভাল ছিল, পেলাম না।”—বলিয়া মুখে বিষন্নতার ভান করিল। খোটা ভূত্য আসিয়া সংবাদ দিল, “দিদিমণি, ট্যাক্সি আয় হ্যায়।” ডোরার নিন্দেশমত ভূত্য তাহার জিনিষ-পত্র নামাইয়া লইয়া গেল। ডোরা আবার নিরঞ্জনকে প্রণাম করিল। নিরঞ্জন ডোরার সহিত নামিয়া তাহাকে ট্যাক্সিতে তুলিয়া দিয়া আসিতে চাহিল, কিন্তু ডোরা বলিল, “তুমি এস না। রামদা’র সঙ্গে আমার একটা গোপনীয় কথা আছে।” - নিরঞ্জন মনে করিল, গাড়ীতে উঠিবার সময় ভৃত্যগণকে বখশিস দিবে বলিয়া ডোরা তাহাকে সঙ্গে আসিতে নিষেধ করিল। ধরা গলার বলিল, “আচ্ছা, এস তা হলে।” পাচক ও ভূতকে ডোরা আগেই বখশিস দিয়া রাখিয়াছিল। সদর দরজার নিকট পেপছিয়া সে হঠাৎ ঝাঁকিয়া রামবে পদপশ করিল। রাম সতভিত হইয়া বলিল, “ছি ছি দিদি ও কি, ও কি ? আমায় পেন্নাম করতে আছে ? আমি যে শািন্দর।” ডোরা বলিল, “প্রণাম করতে আছে। “ তুমি আমায় ভালবাসলে কেন ? আমরা খস্টান যীশ ভাঁজ—ও সব জাতিভেদ টাতিভেদ মানিনে।”—বলিয়া চোখের জল মছিয়া ডোরা ট্যাক্সিতে উঠিল। “মেয়েটা পাগলা ।” আপন মনে এই কথা বলিতে বলিতে চক্ষ মুছিতে মুছিতে রাম ভিতরে গেল। ডোরা চলিয়া গেলে’ নিরঞ্জনের মনে হইল,—বাড়ীটা যেন বিষন্ন মশানের আকার ধারণ করিয়াছে। বিদ্যুতের আলোক যেন আর তেমন উজৰলভাবে জলিতেছে না। একখানা ঈজি-চেয়ারে পড়িয়া পড়িয়া নিরঞ্জন কত কি ভাবিতে লাগিল। k রাত্রি ৮টার সময় রাম তাহার পথ্য—দ্ধ-পাঁউরটী আনিয়া হাজির করিল। নিরঞ্জন খাইতে বসিল, কিন্তু ভাল লাগিল না। এ কয় দিন ডোরাই তাহার পথ্য আনিয়া দিত এবং কাছে বসিয়া খাওয়াইত। কোনও রকমে কতকটা খাইয়া, আচমন করিয়া, নিরঞ্জন আবার ঈজি-চেয়ারে আশ্রয় মাইল। চেয়ারে পড়িয়া থাকাও ভাল লাগে না । মধ্যে মধ্যে উঠিয়া, বাহিরের বারান্দায় পায়চারী করে। ক্লান্ত হইলে আবার আসিয়া চেরারে বসে।