পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২০৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বেকসুর খালাস ఇOS পরষমানুষ বিদেশে যখন চাকরি করতে যায়, সবাই কি আর বউকে গলায় বেধে নিয়ে বায় ? ঐ ত মিত্তিরদের বদবোব রয়েছে, চাটযোদের কেদারবাব, তার পর তোমার গিয়ে ঐ হারাণ ঘোষ—কেউ বিদেশে চাকরি করে, কেউ ব্যবসা করে, কেউ বউকে ত নিয়ে গিয়ে সঙ্গে রাখে না। ছাঁটছাট হলে বাড়ী আসে।” আমি বললাম, “ওগো, ওটা কি জান ? ওটা হচ্চে সহ্যগণের কথা, ওদের সহ্যগণ বেশী, তাই ওরা পারে। এই দেখ না কেন, কেউ বা দশ ক্লোশ পথ স্বচ্ছন্দে হেটে যেতে পারে, কার বা দক্লোশ হাঁটতেই জিভ বেরিয়ে পড়ে। সবাইকার সহ্যগণ কি আর সমান ? তোমার সহ্যগণে বোধ হয় আমার চেয়ে ঢের বেশী।" বউ বলিল, “বেশীই ত ! সহ্য করতে শিখতে হয়।” এ কথা শুনিয়া আমার মনে একটা অভিমান হইল। কিন্তু সে ভাব গোপন করিয়া বলিলাম, “শিখতে হয় বললে, এটা কিন্তু ভুল। এটা জিওমেট্রি না অ্যালজ্যাবরা যে শিখতে হবে ? অভ্যাস করতে হয় বলা তোমার উচিত ছিল।” বউ বলিল, “ঐ হ’ল, যার নাম ভাজ চাল তার নাম মুড়ি। আমি ত আর তোমার মত পাস করিনি।”—বলিতে বলিতে তাহার মখে স্বামিগাব পষ্টতঃ ফুটিয়া উঠিল। সত্যই ত. গ্রামে কটা মেয়ের পাস-করা স্বামী আছে ? বিশেষ সদগোপের ঘরে। আমার মনের ব্যথাটকু দরে হইয়া গেল ! গ্রামের হারাণ ঘোষ কলিকাতায় চাউলের কারবার করে । চাউল কিনিবার জন্য সে BB BBDDS BB BBBBS B BDDS BBB BB BB BBB BBBBBS আমার ত সেখানে একটা বাসা আছে যতদিন না চাকরি-বাকরি হয়, আমার বাসায় থাকবে, হারাণ বয়সে . আমার চেয়ে ৫৬ বৎসবের বড়। ত হকে তামি হারদাদা বলিয়া থাকি। সে লেখাপড়া না জানিলেও দশ বৎসর কলিকাতাবাসের ফলে বেশ চালাক-চতুর হইয়াছে।” মনটাও তার সাদা। -- যাত্রার পত্ৰবদিন বাড়ী-ঘরে তালা বন্ধ করিয়া, বউকে তাহার বাপের বাড়ীতে লইয়া গেলাম। প্ৰথর হইল, শ্বশর মহাশয় সব্বদা আসিয়া আমার বাড়ী-ঘর দেখা-শনা করিবেন। সে রাত্রে বউ ত কাঁদিয়া কাটিয়া অস্থির হইল। আমিও চোখের জল মাছিতে মুছিতে বলিলাম, "বাঃ, এই বুঝি তোমার সহাগুণ ?” সে বলিল, “সহ্যগণের মখে আগন, তুমি কবে আসবে তাই বল ?” "চাকরি-বাকরি একটা জাটক –তবে ত আসবো ।” “যদি জটতে দেরীই হয়, এক মাস বাদে তুমি এসে একবার আমায় দেখা দিয়ে যেও । বাঝলে ?” “বেশ, তাই আসবো।” • পরদিন বিপ্রহরে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে কলিকাতা যাত্রা করিলাম। f শবশর মহাশয় আমাকে হারাণ ঘোষের হাতে হাতে সপিয়া দিয়া তাহাকে অনেক মিনতি করিলেন, যাহাতে আমাকে কোনও অমঙ্গল পশ করিতে না পারে। . দই হাওড়া স্টেশনে নামিয়া হারদা আমাকে লইয়া ট্রামযোগে ভবানীপরে উপস্থিত হইল। এক স্থানে ট্রাম হইতে আমরা নামিলাম। হারদা বলিল, “এইটি হচ্চে জগ বাবরে বাজার।” বড় রাস্তা দিয়া খানিক গিয়া হারদা একটা গলির মধ্যে প্রবেশ করিয়া কিছর