পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


為0● • *, * গল্প-গ্রন্থাবলী সহিত কি কথাবাৰু কহিতেছেন। পিয়ারী বিবি সেই পরিষেকে “নবাব সাহেব বলিয়া সম্বোধন করিতেছেন। - “নবাব” ইতিপবে কখনও চক্ষে দেখি নাই, লোকটির মুখপানে চাহিয়া রহিলাম। ভাবলাম, নবাব যদি ত ইংরাজী পোষাক কেন ? তাঁহারা নিম্নস্বরে কথারাজা কহিতে*ছলেন, কোনও কথা আমি শনিতে পাইলাম না। নবাব সাহেব চলিয়া গেলে আমাকে আবার দগ্ধ পান করানো হইল। পরদিন প্রাতে আমার মনে হইল, আমি বোধ হয় উঠিয়া বসিতে পারি। চেটা করিলাম, কৃতকাষ" হইলাম। লায়লী আসিয়া বলিল, “এই যে আপনি উঠে বসেছেন! মাকে ডেকে আনি ৷”—বলিয়া সে ছটিয়া চলিয়া গেল। Gद्भ তিন চারি দিন পরে আমি খাট হইতে নামিতে পারিলাম, ঘরের মধ্যে একট চলিয়া বেড়াইলাম। পরদিন খোলা ছাদে বাহির হইয় একটু বেড়াইলাম। সেদিন লায়লী একটি বড় গোলাপফল আনিয়া আমায় উপহার দিল। ফলটি লইয়া আমি মাথায় ঠেকাইয়া, মাথা ঝুকাইয়া কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলাম । তিন চারি দিন পরে আমি সেই শয়নকক্ষে একটা চেয়ারে বসিয়া আছি, পিয়ারী বিবি আদরে বসিয়া এক টুকরা রেশমের উপর সচের সাহায্যে ফলে তুলিতেছিলেন, এমন সময় সেই নবাব সাহেব আসিয়া প্রবেশ করিলেন । পিয়ারী বিবি দাঁড়াইয়া উঠিয়া তাঁহাকে সেলাম করিলেন । আমিও তাঁহার দেখাদেখি চেয়র ছাড়িয়া উঠিয়া সেলাম করিলাম । নবাব সাহেব আমার পিঠ চাপড়াইয়া বললেন, “বা রে বোরা কালা, তোর ত বেশ বন্ধি আছে দেখছি!” তাহারা বসিলে, আমিও উপবেশন করিলাম। তখন তাঁহাদের মধ্যে এইরুপ কথোপকথন হইতে লাগিল— নবাব সহেব। চল না ও-ঘরে, একটা বিশেষ কথা আছে। পিয়ারী। “এখানেই বলন না—আর, ও ত বোবা কালা, ওকে আর ভয় কি ?” ইহা শ্রবণমাত্র আমার মনে একটা প্রবল কৌতুহল জন্মিল। ব্যাপার কি ? কিন্তু মনের সে ভাবটা দমন করিয়া, আমি নিলিপ্তভাবে অন্য দিকে চাহিয়া রহিলাম । নবাব সাহেব ...মহারাজ ত আর বেশী দিন এখানে থাকবেন না। আমাদের শেষ কথা জানতে চান । (নবাব সাহেব পশ্চিমের একজন বিখ্যাত করদ নপতির নাম করিলেন।) পিয়ারী। পাঁচ লাখের কম কি আর রাজি হওয়া যায় ? নবাব। তিনি কিন্তু দ’লাখের বেশী উঠতে চাচ্ছেন না। তিন লাখ বলবো ? তোমার এক আমার দই। পিয়ারী। আমার এক, আপনার দুই বইকি? আধা-আধি। নবাব। আচ্ছা, তাই তাই । কিন্তু লায়লীকে কি রাজি করা যাবে? ও ত মহারাজের নাম শনলে জনালে যায়। পিয়ারী। না, সে আমি ওর মন বঝে দেখেছি। ও কিছতেই রাজি হবে না। নবাব। সেই বঝেই মহারাজ একটা ফন্দী বের করেছেন। তিনি বলেন, তুমি -আমি লায়লীকে নিয়ে দেশ বেড়াবার ছলে ওঁর রাজ্যে গিয়ে উপস্থিত হই। উনিও তার পরেই রাজ্যে ফিরে যাবেন। তখন লায়লীকে গুর হাতে দিয়ে আমরা চলে আসবো । -অামাদের যাতায়াতের সমস্ত খরচ মহারাজ দেবেন বলেছেন। " }