পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২২৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


-R、O ," গল্প-গ্রন্থাবলী বাজিলে ব্যানাজি সাহেব শয়ন করিতে যান না। সাহেবের প্রবাস যারার জন্য কাপড়.চোপড় গছাইবার অছিলায় কানাই বাসায় গেল না ; রারি ১oটা বাজিলে ব্যানাডিজ সাহেব শয়নকক্ষে প্রবেশ করিলেন। অন্য দিন কানাই তাঁহার তামাকু সাজিয়া পালকের পাশেব রাখিয়া যায়, শয়নকালে ব্যানাজি সাহেব -দেশলাই জালিয়া অগ্নিসংযোগ করিয়া ল'ন ; আজ নিজেই সে কলিকা ধরাইয়া আনিয়া, মনিবের শয্যাপাশেব রাখিয়া বলিল, “হজর, আমার বেয়াদপি মাফ করবেন, এই চিঠিখানি পড়ে দেখনে ৷”—বলিয়া চিঠিখানি বিছানার উপর রাখিয়া নতমস্তকে দাঁড়াইয়া রহিল। ব্যানাডিজ সাহেব খামের উপর কন্যার হাতের লেখায় সেই যুবকের নাম দেখিয়া কন্ধ হইয়া বলিলেন, “এ চিঠি কোথা পেলি তুই র” * t কানাই বলিল, “মিস সাহেব এটা ডাকে লাগাবার জন্যে আমায় দিয়েছিলেন।” ব্যানাডিজ পত্র উলটাইয়া দেখিলেন উহা খোলা। পত্র পড়িতে পড়িতে ক্ৰোধে তাঁহার মথ রক্তবর্ণ ধারণ করল। পাঠশেষে চিঠি হাতে প্রায় দই মিনিট কাল তিনি তবধ হইয়া হসিয়া রহিলেন। তারপর জিজ্ঞাসা করিলেন, “তুই খলেছিস বঝি ?” “হােজর! চিঠি পড়ে ভাবলাম, যাঁর নন খাই, তাঁর কোনও অনিস্ট জেনে শনে হতে দেওয়া আমার কত্তব্য হবে না। তাই এ চিঠি ডাকে না লাগিয়ে হজেরকে দেখাবার জন্যে রেখেছি।” g - - “তা বেশ করেছিস—এতে আমি তোর কাছে উপকৃত হলাম। না হয় খন্টানই হয়েছি, বামনের ছেলে হয়ে ধোবা জামাই প্রাণ থাকতে আমি করতে পারবো না। কিন্তু ভাল কথা, এ চিঠি তুই কাকে দিয়ে পড়িয়েছিস ?” "কাউকে দিয়ে পড়াইনি হজের। আমি নিজেই পড়েছি। শ্ধ এখানা নয়, দু'জনের অনেক চিঠিই আগে আমি পড়েছি। পালাবার পরামশ হচ্ছিল, তাও আমি জানতে পেরেছিলাম কিছু দিন আগে।” “কিন্তু এ যে ইংরেজী চিঠি, তুই পড়লি কি করে " 啤 “আমি একটু একটা ইংরেজী জানি হজের। আমি ম্যাটরিক পাস করেছি।” “তুই ম্যাটরিক পাস ? তবে যে বলেছিলি, সামান্য বাঙ্গলা জানিস মাত্র।” “গেল বছর পাস করেছি। একটা কেরাণীগিরি-টিরির চেস্টাতেই আমি কলকাতায় আসি। কিন্তু অনেক চেস্টাতেও কোথাও কিছল জোটাতে পারিনি ! শেষকালে ভাবলাম, দরে হোক, যে চাকরি পাই সেই চাকরিই করবো। হাজারের বেয়ারীর দরকার আছে শুনে, তাই হজুরের কাছে এসে চাকরি প্রাথনা করেছিলাম। লেখাপড়া শিখে বেয়ারার কাজ করবো, তাই নিজেকে মুখ বলে পরিচয় দিয়েছিলাম।” - “আচ্ছা, এখন তুই যা। তোকে বেয়ারার কাজ বেশী দিন তার করতে হবে না। "ছটির পর আপিস-টাপিস খুললে আমি তোর উপযুক্ত একটা চাকরি জটিয়ে দেবার চেষ্টা করবো।“ - কানাই সেলাম করিয়া চলিয়া যাইতেছিল, সাহেব বলিলেন, “হ্যাঁ, শোন। এ চিঠির বিষয় কোনও কথা কার কাছে যেন প্রকাশ করিসনে, বাঝলি !" “না হজের—কারার কাছে প্রকাশ করবো না।”—বলিয়া পনরায় সেলাম করিয়া কানাই প্রস্থান করিল। ব্যানাজি সাহেব একাকী দেরাদন যাইবেন ব্যবস্থা ছিল, কন্যা বীণাকেও তিনি সঙ্গে লইয়া গেলেন। বীণা অনেক ওজর আপত্তি উথাপন করিয়াছিল, কিন্তু সে সব কথায় তিনি কণপাত করেন নাই । দেরাদনে হইতে ফিরিয়া বীণাকে তিনি কলেজের বোডিং-এ ভত্তি করিয়া দিলেন।