পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২২৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পরের চিঠি . কানাইকে তিনি ত্রিশ টাকা বেতনের একটা কেরাণীগিরি জটাইয়া দিয়াছিলেন। , কিছুদিন পরে বীণার প্রণয়ী বিশ্বাসঘাতকতা করিল। টাকার লোভে সে অপর এক দেশীয় খাটন ভদ্রলোকের কুৎসিত কন্যাকে বিবাহ করিল। বীণা শুনিয়া প্রথমটা খুবই কাঁদাকাটা করিয়াছিল। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই নিজেকে সে সামলাইরা লইল । বৎসরখানেক পরে, ব্যানাজি সাহেব নিবিঘের নিজ মনোমত পারে বীণাকে সম্প্রদান করিলেন। পরের চিঠি অাহারাদি করিয়া, ধড়াচড়া পরিয়া, বেলা ১১টার সময় সাব-ডেপুটিবাব কাছারি, রওয়ানা হইলেন। তাঁহার ভাষা মণিকা দেবী তখন চলে খালিয়া উহাতে চিরণী দিতে দিতে সনানের ঘরে প্রবেশ করিতেছেন। মণিকার বয়স অল্টাদশ বর্ষ, সবেমাত্র এক বৎসর বিবাহ হইয়াছে। মণিকা বেথনে আই-এ পড়িতেছিল, বিবাহ হইয়া পড়া বন্ধ হইল। স্বামীর নাম সুরেন্দ্রনাথ দেব, জাতিতে কায়স্থ, বয়স ২৭ বৎসর, বেশ স্বাস্থ্যপণে বলিষ্ঠ দেহ, তবে রঙটি মণিকার মত ধবধবে নহে-উজনল শ্যামবণই বলিতে হইবে। সরেনবাব ইংরাজি সাহিত্যে প্রথম শ্রেণীর এম-এ, তাহার উপর একজন সকেন্ঠ গায়ক। মণিকার মনে স্বামিসৌভাগ্যগবের অন্ত নাই। কৈশোর কাল হইতে উপন্যাস পড়িয়া পড়িয়া দাম্পত্য প্রেমের একটা উচ্চ আদশ" মনের মধ্যে মণিকা প্রতিষ্ঠিত করিয়া রাখিয়াছিল। তাহার বিশ্বাস, প্রত্যেক মানষে জীবনে একবার মাত্র ভালবাসিতে পারে। যদি কেহ প্রথমা সত্রীকে ভালবাসিয়া, তাহার মত্যুর পর আবার বিবাহ করে, তবে সেই দ্বিতীয় পক্ষের পত্নীর প্রতি তথাকথিত ভালবাসা জাল ও জয়াচুরি মাত্র। উহাতে দেহের মিলন হয় বটে, প্রাণের মিলন, আত্মার মিলন অসম্ভব। মণিকার পিতা মধ্যবিত্ত গহস্থ;—সুশিক্ষিত এবং আধুনিক ভাবাপন্ন। সংসার খবে স্বচ্ছলের না হইলেও, কন্টে সন্টে মেয়েকে পড়াইতেছিলেন। মেয়ের রাপ আছে, তাহার উপর বিদ্যা-সংযোগ হইলে, কালে এমন কি একটা সিভিলিয়ন জামাতা জটিয়া যাওয়াও আশ্চৰ্য্য নহে, ইহাই ছিল তাঁর মনের গোপন আশা। কিন্তু কাৰ্য্যকালে দেখিলেন, বিলাত-ফেরৎ হইলে কি হইবে ? চোরা না শনে ধমের কাহিনী ! সে শ্রেণীর পাত্রের দর অতিরিক্ত চড়া। চারি অঙ্কে কুলায় না, পাঁচ অঙ্ক আবশ্যক। তাই অবশেষে তিনি হতাশ হইয়া একটি উচ্চপদস্থ দ্বিতীয়পক্ষ পাত্র স্থির করিয়াছিলেন। বয়স তাহার এমন কিছু বেশী নয়, সন্তান সন্তীতও ছিল না। কিন্তু দ্বিতীয় পক্ষ শনিয়া মণিকা এমন বকিয়া বসিয়াছিল যে, সে সম্বন্ধ ভাঙ্গিয়া দিতে হয়। অবশেষে সাব-ডেপুটি সরেন্দ্রনাথের হতেই তিনি কন্যাদান করিয়াছেন। সরেন্দ্রবাব এক্ষণে রঙ্গপারে কায করিতেছেন। * স্নান সারিয়া, মণিকা বিকে আদেশ করিল, “বামনঠাকুরকে বল আমার ভাত বেড়ে নিয়ে আসতে।” আহারাতে তাবল চক্রবণ করিতে করিতে মণিকা একটা বাগলা মাসিক পত্রিকা হতে সোফার অঙ্গ ঢালিল। এখানি “তরণ" দলের কাগজ। মণিকা একটা গল্প পড়িতে আরম্ভ করল। সামপ্রেম-বঞ্চিতা এক তরণী গোপনে কিরাপ ভাবে পর্ষা