পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২৫৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ՀՏե গল্প-গ্রন্থাবলী নল রাখিয়া কাগজ উঠাইরা পাঠে মন দিতেছেন। চটিজতা পায়ে ষোল-সতেরো বছরের একটি সন্দেরী মেয়ে কক্ষ হইতে বাহির হইয়া আসিল। তার কুঞ্চিত কেশরাশি পিঠের উপর পড়িয়াছে—পরিধানে একখানি দেশী ডরে শাড়ী, গায়ে শিমপাতা রঙের ফ্ল্যানেলের একটি হাপ-হাতা ব্লাউজ। রঙটি বাহাকে বলে দুধে-আলতা, চক্ষ দুইটি বড় বড়, দেহটি যৌবন-লাবণ্যে টলটল করিতেছে। মেয়েটি বন্ধের চেয়ারের কাছে আসিয়া বলিল, “বাবা, আপনাকে আর দু’টো পাণ দিয়ে যাব কি ?” হরিশপ্তকরবাব মুখ তুলিয়া বলিলেন, “দিয়ে কোথা যাবি ? শমতে ?” “না বাবা, আমি ছাদে যাব চল শকুতে।” “তা যাবি যা, কিন্তু দিনের বেলায় ঘমেসনে, মা। শীতকালে দিনে ঘািমলে শরীর খারাপ হয় ।” “না বাবা, ঘামবো না আমি। যদি ঘমে পায়, নেমে বাগানে গিয়ে বেড়াব। কিন্তু পাণের কথা ত আপনি বললেন না, আর দু'টো পাণ দিয়ে যাব কি ?” হরিশপ্তকরবাব পাণের ডিবার পানে এক নজর চাহিয়া বলিলেন, “ঐ ত দুটো রয়েছে, আর পাণ কি হবে ?” মেয়েটির নাম সশোভনা। সে কলিকাতায় কলেজে পড়ে, বোডিং-এ থাকে, পাজার ছুটিতে বাড়ী আসিয়াছে। সুশোভনা তখন ধীরপদে কক্ষমধ্যে প্রবেশ করিল এবং আপন শয়ন-ঘরে গিয়া, টেবিলের উপর বিক্ষিপ্ত খানকয়েক বাঁহ হইতে একখানি উপন্যাস বাছিয়া লইয়া ছাদে গিয়া দেখিল, বাটীর ঝি কিশোরীর-মা, আহারান্তে পাণ ও দোক্তা গালে দিয়া, এক বাটি দাইলবাটা লইয়া বড়ী দিতে বসিয়াছে। সশোভনা কিছুক্ষণ ঝির নিকট দাঁড়াইয়া তাহার বড়ী দেওয়ার কৌশল দেখিল। জিজ্ঞাসা করিল, “কি ডাল বেটেছিস, কিশোরীর-মা ?” ঝি বলিল, “কড়াইয়ের ডাল, দিদিমণি।” সংশোভনা তখন ঝির নিকট হইতে সরিয়া. ছাদের আলিসার নিকট গিয়া দাঁড়াইল । সমখে মাঠ ধধে করিতেছে, কোথাও একটা বক্ষের অন্তরাল পৰ্য্যন্ত নাই। মাঠের মাঝে উচ্চ পাড়ষত্তে কুমীরদীঘি নামক জলাশয় । সুশোভনা লক্ষ্য করিল, দীঘির পাড়ে তিনটি মনুষ্য বিচরণ করিতেছে—একজনের মাথায় শাদা শিকার-হ্যাট রোঁদে চকচক করিতেছে। বলিল, “ঐ দেখ কিশোরীর-মা, কারা আবার কুমীর মারতে এসেছে !” কিশোরীর-মা বড়ী-হাত বাটির কাণায় মাছিয়া সশোভনার পাশেব গিয়া দাঁড়াইল। সেই দিকে দটি বন্ধ করিয়া বলিল, “একজন সায়েব এসেছে দিদিমণি!” সুশোভনা বলিল, “সায়েব তোকে কে বললে ?” t ঝি বলিল, “দেখছনি, টোপা মাথায় দিয়ে বেড়াচ্চে।” - সশোভনা বলিল, “সায়েব না হাতী ! টোপা মাথায় দিলেই বুঝি সায়েব হয় ? বাঙ্গালীরাও ত শিকার করতে যাবার সময় ইংরেজি কাপড় পরে, হ্যাট মাথায় দেয়। যা না, আমার ঘর থেকে দরবীণটে নিয়ে আয় না, ভাল করে দেখি ওদের।” I কিশোরীর-মা নামিয়া গিয়া, একটা বাইনকুলার দরবীণ লইয়া আসিল। এটি তাহার গত জন্মদিনে তাহার পিতার উপহার। সশোভনা বাইনকুলার চোখে দিয়া ফোকাস ঠিক করিয়া দীঘির পাড়ে মনুষ্যদিগকে দেখিল। একজন ইংরাজি বেশধারী এবং একজন ধতি-পরা বাঙ্গালী, উভয়েরই হাতে বন্দকে ! অপর ব্যক্তি মটিয়া-শ্রেণীর বলিয়া বোধ হইল। তখন যন্ত্রটি ঝির হাতে দিয়া বলিল, “বাঙ্গালীই ত। সবাই বাঙ্গালী। দ্যাখ্য।" কি কিন্তু যন্ত্রটি চোখে লাগাইয়া কিছুই দেখিতে পাইল না। সে কথা সে বলিলে, সংশোভনার স্মরণ হইল, বয়সের পাথক্য-হেতু উভয়ের দটিশক্তির তারতম্য হওয়াই স্বাভাবিক। তখন সে ঝির চক্ষলগ্ন যন্ত্রটির পোচ ঘরাইতে লাগিল; ক্ষণকাল পরে