পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সশোভনা 总d> আটটার ট্রেণে আসিয়া পে’ছিবেন, অমরেন্দ্রনাথের সী ও ভগিনী ঐ সঙ্গে আসিতেছেন; স্টেশনে যান-বাহনের যেন ব্যবস্থা থাকে। e হরিশ করবাব যথোপযুক্ত ব্যবস্থা করিবার জন্য তাঁহার সরকারকে স্টেশনে পাঠাইয়া দিলেন। স্কুমার বলিল, “সরকার-মশাই, অমরেন্দ্রবাবরে একজন বাবচ্চি এসেছিল আমাদের সঙ্গে, ওয়েটিং-রামে বারান্দায় তাকে দেখতে পাবেন, তাকে একখানা টিকিট কিনে দিয়ে কলকাতায় ফিরে যেতে বলবেন, এই টাকা নিন।” রাত্রি নয়টার মধ্যেই সকলে আসিয়া পেপছিলেন। ডাক্তার সাহেব অমরেন্দ্রনাথের ভাঙ্গা হাড় “সেট” করিয়া মক্ষমরপে ব্যাণ্ডেজ বধিয়া, এক্সটেলসন প্রোসেসে লোহার শিকের ফমণয় উহা আটকাইয়া, সেই ফক্ষমা পালঙ্কের ছত্রীতে দড়ি বাঁধিয়া ঝালাইয়া দিলেন। ভাঙ্গা পা বিছানা হইতে চার-পাঁচ ইঞ্চি উদ্ধেৱ’, বদ্ধ অবস্থায় দোদুল্যমান। বলিলেন, পরা তিন সপ্তাহকাল, যত দিন ভাঙ্গা হাড় না ষোড়া লাগিবে, ততদিন রোগীকে এই অবস্থাতেই থাকিতে হইবে। সে শ্যইয়া থাকিবে, যদি যন্ত্রণাবোধ না হয়, তবে একটা উঠিয়া বসিতেও প্লারে। কিন্তু শয্যাত্যাগ করিতে পারবে না। ডাক্তার সাহেব সপ্তাহে একবার করিয়া আসিয়া রোগীকে দেখিয়া যাইবেন সিথর হইল। অমরেন্দ্রনাথের স্ত্রী ও ভগিনী উভয়েই এখানে রহিয়া গেলেন। স্কুমারও রহিল। হরিশপ্তকরবাব ও তাঁহার কন্যার যত্ন ও সৌজন্যে সকলেই আপ্যায়িত। कीद्भ এক মাস কাটিয়া গিয়াছে—এখনও অমরেন্দ্রনাথের বন্ধাবসথা। প্রথমে ডাক্তার সাহেব তিন সপ্তাহের কথা বলিলেও, গত সপ্তাহে তিনি রোগীর ভাঙ্গা পায়ের এক্স-রে ফটো তুলিয়া লইয়া গিয়াছিলেন, এ সপ্তাহে সেই ছবি আনিলেন এবং সকলকে উহা দেখাইলেন যে, হাড় বেমালমভাবে যোড়া লাগিয়া গিয়াছে। বলিলেন, তথাপি নিশ্চয়কে নিশ্চয়তর করিবার জন্য আরও দুই সপ্তাহ রোগীর বাঁধন খলিবেন না। বাঁধন খলিলেও রোগী বাড়ী যাইতে পাইবে না, এক সপ্তাহ বিছানায় পড়িয়া থাকিয়া পায়ে মালিস করাইতে হইবে, কারণ, এই দীঘকালের অ-সঞ্চালনে পা অসাড় হইয়া গিয়াছে, আরও যাইবে । অমরেন্দ্রনাথের স্ত্রী সভাষিণী ও ভগিনী সান্ত্বনা দুজনেই এখানে। প্রথম চারি পাঁচ দিনের পর যখন দেখা গেল যে, রোগীর কোনও প্রকার দৈহিক যন্ত্রণা আর নাই, অধিক শশ্রেষারও আবশ্যক হয় না, তখন ই-হারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করিয়াছিলেন যে, সান্ত্বনাকে লইয়া সভাষিণী ফিরিয়া যাউন, গহন্থের যথেষ্ট আশ্রমপীড়া ঘটানো হইতেছে, তাহার ঘতটুকু লাঘব করা যায়। স্কুমারের আপিস খলিলে একদিনমার গিয়া সে এক মাসের ছুটী লইয়া আসিয়া এখানে থাকুক। কিন্তু হরিশপ্তকরবাব কিছতেই এ প্রস্তাবে রাজি হন নাই—বিনীতভাবে উত্থাপিত আশ্রমপীড়ার কথা তিনি হাসিয়াই উড়াইয়া দিয়াছিলেন, বলিয়াছিলেন, “আমরা এতগুলি লোক যদি দুবেলা দমটো খেতে পাই, তবে তোমাদেরও দমটো খাওয়াতে আমার কষ্ট হবে না। এই সঙ্কটের দিনে সল্লী, ভগিনী কাছে থাকলে, আর কিছু না হোক, মনটাও ভাল থাকবে, তাই কি কম লাভ ? না না, ও সব ছেলেমানষৌ খেয়াল তোমরা ছেড়ে দাও।” ও দিকে আবার এক বিষম বিভ্রাটি বাধিয়া গিয়াছে। সভাষিণী, সাশনা রোগীর পরিচষ্যার জন্য রহিয়া গেল, সরুমারের থাকিবার বিশেষ কিছর আবশ্যকতা ছিল না, কিন্তু সে-ও আছে। আপিস খলিবার দিন আপিসে গিয়া সে দই সপ্তাহের ছুটী