পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ミもO - গল্প-গ্রন্থাবলী । “আপনি জিজ্ঞাসা করিতে পারেন, ফল কি হইল ? যে ফল দশ বৎসর পরে প্রকট হুইবে, সে ফলের কথা না ধরিলেও আমরা যে আশাতীত ফল পাইয়াছি, তাহা অস্বীকার DBBB BB DS DD DD BD DDBB DBB DDBB D DBBD DDBB যাই, এটা সাধারণ ব্যাপার, কিন্তু আপনি তোপ-বন্দকে লইয়া গলী করিবার জন্য প্রস্তুত । হইয়া আছেন, আর আমি বকে ফলাইয়া মারো বলিয়া দাঁড়াই, এটা বাঙ্গালীর পক্ষে ত বটেই, সকল জাতির পক্ষেই অসাধারণ ব্যাপার। আর যেখানে এরপ ব্যাপার একটি দটি নহে, সহস্রাধিক হইয়া গিয়াছে, সেটাকে আশাপ্রদ চিহ্ন বলিয়াই ধরিতে হইবে।” কলিকাতার অবস্থা বর্ণনা করিতে গিয়া লিখিয়াছে— ‘ . . . “সব্বাপেক্ষা আশচয্য বিষয়, বিনা চেন্টায়, বিনা প্রোপাগান্ডায় একদিনে বাঙ্গালী সিগারেট ছাড়িয়া দিয়াছে। কোনও পাণওয়ালাব নিকট সিগারেট পাইবেন না। একজন নিল্পজ বাঙ্গালী এক খোট্টা পানওয়ালার কাছে কাঁচি-মাকা সিগারেট চাহিয়াছিল, সে খানিকক্ষণ অবাক হইয়া বাবর মুখের দিকে চাহিয়া থাকিয়া শেষে বলিল—‘বাব, কাঁচমাকৰ্ণ নেহি হ্যায়, জাঁত-মাক হ্যায় খাওগে’ ?” ইত্যাদি ইত্যাদি। এই পত্রে সে তার পিতাকে কমে ইস্তফা দিবার জন্য বিশেষ অননয় করিয়া লিখিয়াছে। পত্র পড়িয়া উনি ত তেলে-বেগনে জনলিযা উঠিয়াছেন। বলিলেন, “দেখেছ ছেলে বেটার কাণ্ড ! আমি জয় মহাত্মা গান্ধী বলে চাকরীটি ছেড়ে দিই, তারপর খাই কি ? নন্ণ ? নগে খেয়ে কদিন বাঁচবো ?” ছেলেটা পাছে সত্যাগ্রহীর দলে ভিড়িয়া যায়, এই ভাবনায় আমরা স্বামী-স্ত্রী অস্থির হইয়া উঠিলাম। বন্ধি খাটাইয়া ছেলেকে পত্র লিখিলাম— “বাবা সন্ধা, উনি তোমার পত্র পাইয়াছেন, কিন্তু শারীরিক অসন্থেতা বশতঃ নিজে উত্তর লিখিতে পারিলেন না। শরীরের উন্নতির জন্য পাহাড়ে আনিলাম, কিন্তু উন্নতি তেমন ত দেখিতে পাইতেছি না। বিদেশ-বিভূই, যদি অসংখ বাড়ে, তবে আমি একা সন্ত্রীলোক তাঁহাকে লইয়া আতান্তরে পড়িয়া যাইব। এক সপ্তাহ হইল, তোমার কলেজ বন্ধ হইয়াছে, তুমি সেখানে কেন দেরী করিতেছ, ববিতে পারিতেছি না। পত্রপাঠমাত্র তুমি চলিয়া আসিবে, একটি দিনও বিলব কারও না।” এ চিঠির ফল ফলিল, সন্ধা চলিয়া আসিল। পোষাক তাহার আগাগোড়া খন্দরে নিমিত। খকেীর ও আমার জন্য এক বোঝা খন্দরের শাড়ী, শেমিজ প্রভৃতি লইয়া আসিয়াছে। বলিল, “মা, তোমাদের খন্দর ছাড়া অন্য কিছুই আর পরা চলবে না।” আমি বলিলাম, “খন্দর ত পরবোই বাবা! কিন্তু যা আছে, সে কাপড় চাপড়গুলো ছি’ড়কে আগে।” প্রথমে সে বলিল, ও-সব পোড়াইয়া ফেলাই উচিত। অনেক টাকার জিনিষ, সব পোড়াইয়া লোকসান করিবার মত অবস্থা আমাদের নয়, এই সব অজুহাতে শেষে রফা হইল, বাড়ীতে সেগলা পরা চলক, কিন্তু বেড়াইতে বাহির হইবার সময় খন্দরই পরিতে হইবে। তথাস্তু। Q সন্ধা আসিয়া চা খাইল না, বলিল, উহাতে বিলাতী চিনি আছে, তা ছাড়া ওটা একটা অনাবশ্যক বিলাসিতা। উনি এখানে আসা অবধি স্টেটসম্যান কিনিতেন—সন্ধা আসিয়া তাঁহার স্টেটসম্যান কেনা বন্ধ করিয়া দিল। দেশী খবরের কাগজ পাবাবাঁধই বন্ধ হইয়া গিয়াছিল, সতরাং কলিকাতার, তথা সারা দেশের আর কোনও সংবাদ পাই না। একদিন লোকমুখে শনিলাম, মহাত্মা গান্ধী গ্রেপ্তার হইয়াছেন। সেদিন সন্ধা উপবাস করিবে বলিয়া বাহানা ধরিল। অনেক কন্টে তাঁহাকে কিছু দধ ও মিস্টার খাওয়াইলাম, আমিও তাহাই খাইয়া রহিলাম। ছেলে উপবাসী—মা খায় কোন লজার ?