পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


է Ց Հ * গল্প-গ্রন্থাবলী উ’হার ইচ্ছা, ছেলে বি-এ পাস করিয়া ডেপুটী হইলে তবে তাহার বিবাহ দিবেন, সেই জনাই লীলার মাকে আমি পন্টাক্ষরে কিছু বলি নাই। খকেী আমার মন ভিজাইবার জন্য সময়ে অসময়ে লীলার নানা সদগণের কথা আমায় বলিয়া থাকে। তাই এ ব্যাপারে খকেীর এত দুঃখ । 證 কথাটা শুনিয়া আমার মাথায় ত বজ্রাঘাত হইল। লীলার সঙ্গে পত্রের বিৰাহ দিই আর না দিই, একটা পাহাড়িয়া মেয়ের সঙ্গে দিব কেন ? কত্তাকে গিয়া জানাইলাম। শনিয়া তিনি খানিকক্ষণ গম হইয়া বসিয়া রহিলেন, তারপর বলিলেন, “সেই কালেই আমি তোমাকে সাবধান করে দিইনি?”-খব খানিকটা বাঁকলেন। তা বকুন, বকুনি আমার পাওনা হইয়াছে বইকি। আমি চপ-চাপ বসিয়া বকুনি হজম করিয়া, শেষে বলিলাম, “সে ত যা হবার তাই হয়ে গেছে, এখন উপায় কি বল ?” কয়েক,মহত্ত চিন্তা করিবার পর তিনি বলিলেন, “সন্ধা যে ওকে বিয়ে করতে চায়, সে কথা তোমায় কে বললে ? সন্ধা বলেছে ?” উত্তর করিলাম, "না, সন্ধা বলেনি, খুকী বললে। ঐ যে ইংরেজীতে ওকে লিখেছে, আমি তোমায় ভালবাসি।” তিনি হাসিয়া বলিলেন, "খকী এখন নভেল পড়তে শিখেছে কিনা ও মনে করে, ভালবাসলেই বুঝি বিয়ে করতে হয়। আমাব ত মনে হয়, বিয়ে করবার কল্পনা সন্ধা করেনি, এত নিবোধ সে নয়। তুমি পাহাড়ী মেয়েদের চরিত্র জান না, ওদের এ বিষয়ে নীতিজ্ঞান খুব শিথিল, কিন্তু আমি যা আশংকা করছি, তাই যদি হয়ে থাকে বা হবার উপক্রম হয়ে থাকে, সেও ত ঠিক নয়। অত্যন্ত অন্যায়। তুমি এক কাজ কর। মেয়েটাকে ত বিদায় করই নানীকেও বিদায় কর । এ বিষয়ের জড় মেরে দাও।” কত্তার আদেশ প্রতিপালন করিলাম। নানীকে তাহার বেতন চকাইয়া দিয়া বলিলাম, “তুমি আর কাল থেকে এস না, আমি অন্য নানী ঠিক করবো!” নানী “কাহে মাইজী কেয়া কসর হয়ো ?" ইত্যাদি কত কথা বলিল, আমি গম্ভীর হইয়া রহিলাম, কোনও উত্তর দিলাম না। ঘণ্টাখানেক পরে সন্ধা আসিয়া বলিল, ”হা মা, নানীকে তুমি জবাব দিয়েছ ? কি দোষ হয়েছে ওর ?” গম্ভীরভাবে বলিলাম, “ওর কোনও দোষ হয়নি। দোষ হয়েছে তোমার।” সন্ধা বিস্মিত হইয়া বলিল, “আমার ? কি দোষ করেছি আমি ?” আমি কঠোরভাবে বলিলাম, "দোষ করনি তুমি ? ঘড়ি একটা যাবতী মেয়ে ওর সঙ্গে কি ব্যবহার করছ তুমি ? আমাদের এতদিন ধারণা ছিল, তুমি অতি সৎ ছেলে। তুমি যে এমন ইতর হতে পার, তা ত আমরা জানতাম না। তোমার এই ইতর ব্যবহারে লক্ষজায় আমাদের মাথা হ’ট হয়ে গেছে, উনি ত বেগে কাঁই হয়েছেন।” সাধা পাববৎ বিস্মিতভাবে বলিল, “কেন, কি ইতর ব্যবহার করেছি আমি ?” “তুমি ওকে ইংরেজীতে লেখনি—“আমি তোমায় ভালবাসি ? খকেণী ওর খাতা-পত্রের মধ্যে সেই কাগজ দেখেছে খকেী তোমার হাতের লেখা চেনে।” সন্ধা বলিল, “ওঃ, এই কথা ? তব ভাল। হ্যাঁ মা, আমি ও কথা তাকে লিখেছি বটে, কিন্তু আমি ত কোনও, কি বলে গিয়ে, dishonourable—অর্থাৎ অসাধভাবে ও-কথা তাকে লিখিনি। আমি তাকে বিবাহ করবার প্রস্তাব করেছি এবং সেও আমায় গ্রহণ করতে সক্ষমত হয়েছে।” 臀 గా “সে কি রে? বামনের ছেলে হয়ে তুই একটা অজাতের মেয়েকে বিয়ে সন্ধা বলিল “কেন মা, তাতে দোষ কি ? সেও ভারতবষে জন্মেছে-নেপাল ভারত