পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


- একালের ছেলে இ আমি পল্লীবাসী ব্রাহ্মণ, আমার নাম শ্রীকরালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নিবাস বন্ধমান জেলার অন্তগত খিজিরপরে। আমার বয়স যখন চতুদশ বৎসর মাত্র, তখনই আমার পিতা সবগ্রামনিবাসী রেবতীমোহন চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের একমাত্র কন্যা শ্ৰীমতী বিরাজমোহিনী দেবী ওরফে রাজরে সহিত আমার বিবাহ দেন। রাজার বয়স তখন আট বৎসর —আমার বশরেমহাশয় গৌরীদান করিয়া, আশা করি পরলোকে তাঁহার পণ্যেচিত পুরস্কার-লাভে বঞ্চিত হন নাই। অবশর-মহাশয়ের কোনও পরেও ছিল না, সতরাং তাঁহার সবগারোহণে তাঁহার বাসগৃহ, পাকরিণী, আমবাগান এবং প্রায় পঞ্চাশ বিঘা লাখেরাজ জমি আমি প্রাপ্ত হই এবং এতাবৎ কাল ভোগদখল করিতেছি। আমার পিতাও নিঃস্ব ছিলেন না, পিতা ও শবশরের মিলিত সম্পত্তির উপস্বত্বে, তাঁহাদের মিলিত আশীবাদে, আমি পল্লীগ্রামের পক্ষে, স্বচ্ছল অবস্থাতেই জীবন যাপন করিতেছি। আমি ক্ৰমে ক্ৰমে দুইটি পত্র ও তিনটি কন্যা লাভ করি, ঈশ্বরেছুায় সকলগুলিই জীবিত আছে। জ্যেষ্ঠপত্রের নাম প্রফুল্লকুমার, গ্রামের ইস্কুলে সে মাইনর পাস করিলে, বন্ধমানে তাহাকে এক আত্মীয়ের বাসায় রাখিয়া রাজস্কুলে ভত্তি করিয়া দিই। তথা হইতে সে ম্যাট্রিক পাস করিয়া মাসিক দশ টাকা জলপানি পায়। আই-এ পড়িবার জন্য কলিকাতা যাইতে চাহিয়াছিল, কিন্তু অত দরদেশে ছেলে পাঠাইতে গহিণীর মত হইল না। শরীর আছে, অশরীর আছে, দায় আছে, বিপদ আছে তার চেয়ে বন্ধমানই ভাল, তিম চারি ঘণ্টার মধ্যে পৌছান যায়। আমার সে আত্মীয়টি ছিলেন সরকারী কর্মচারী। সে সময় তিনি বন্ধমান হইতে বদলী হইয়া গেলেন, সতরাং ছেলেকে রাজকলেজে ভত্তি’ করিয়া দিয়া টডেণ্ট মেস অথবা ছাত্রাবাসে তাহাকে পথাপন করিয়া আসিলাম। এই ছাত্রাবাসটি মহাজনটালীতে অবস্থিত। গত বৎসর ফালগন মাসে কামারহাটী গ্রামনিবাসী শ্ৰীয়াত বৈদ্যনাথ মুখোপাধ্যায় মহাশয়ের কন্যা শ্ৰীমতী উষাবালার সহিত প্রফুল্লকুমারের বিবাহ দিয়াছি। বৈদ্যনাথের সাংসারিক অবস্থা তেমন ভাল নহে, কিছুই দিতে পারেন নাই। গহিণীর তাহাতে খুবই আপত্তি ছিল, কিন্তু মেয়েটি ভারি সন্দেরী দেখিয়া আমি সেদিকে বিষম বকিয়া পড়ি। ঠিকুজী-কোষ্ঠীতেও রাজযোটক দেখা গিয়াছিল। উহারা বলিয়াছিল মেয়ের বয়স এগারো, কিন্তু গহিণী বলিয়াছিলেন, “কখখনো নয়। তেরোর একদিন কম যদি হয় ত আমার নাক কাণ কেটে দিও।”—আমার গহিণীটি কিঞ্চিৎ মুখরা। আমার দ্বিতীয় পত্রটির বয়স দশ বৎসর মাত্র। তাহার নাম হরেন্দ্রনাথ, সে গ্রামপথ মাইনর ইস্কুলে পাঠ করে। কন্যা তিনটি যথাযোগ্য ঘরে-বরে বিবাহ দিয়াছি, তাহারা এখন ছেলেপলের মা হইয়াছে, নিজ নিজ সংসার করিতেছে। মহালয়ার দিন প্রফুল্লকুমার বাড়ী আসিল। স্টেশনে গো-যান পাঠাইয়াছিলাম, হরেন সেই গো-যানে তার দাদাকে আনিতে স্টেশনে গিয়াছিল। ইহা আমার নিজস্ব গো-যান। এখানে আসিতে হইলে মেমরি স্টেশনে নামিতে হয়, মেমারি এখান হইতে সাত ক্লোশ ব্যবধান । পরদিন এক প্রহর বেলা থাকিতে কামারহাটী হইতে প্রফুল্লকুমারের প্রজার তত্ত্ব আসিতে দেখিয়া আমার বকে দরদের করিয়া উঠিল। না জানি কিরাপ তত্ত্ব বেহাই পঠাইয়াছেন এবং সে তত্ত্ব গহিণীর পচ্ছন্দ হইবে কি না। তত্ত্ব পছন্দ না হইলে গহিণী রাগিয়া “কুরক্ষেত্ন” করিবেন, এ আশংকা আমার মনে ছিল। গত জামাইবষ্ঠাঁর