পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একালের ছেলে ସ୍ ସ୍କ0: আমি নিজ কপাল টিপিয়া ধরিয়া, চক্ষ মদিয়া নারায়ণ স্মরণ করিলাম। একট সামলাইয়া লইয়া, মুখ তুলিয়া বলিলাম, "তোমার ভুল হয়নি ত ?” গহিণী বলিলেন, “শত্রর মুখে ছাই দিয়ে আমি পাঁচ-পাঁচটা সন্তানের মা, তিনটে মেয়ে আমার কাছে থেকে খালাস হ’ল,—আমারই ত ভুল হবে । সে যাক, বউমাও ত অস্বীকার করছে না। এ সব্বনাশ কে করলে জিজ্ঞাসা করলে কোনও উত্তর দিচ্চে না । খালি কাঁদছে। এখন বউ নিয়ে কি করবে কর। ঝাঁটা মেরে বিদেয় কর।” আমার চক্ষা দিয়া ঝর ঝর করিয়া জল পড়িতে লাগিল। আহা, মেয়েটাকে আপন সন্তানের মতই ভালবাসিয়াছিলাম। আমায় এ কি শাসিত দিলে, ভগবান ? চক্ষ মছিয়া বলিলাম, “আহা, ওর দোষ কি, দধের বাছা! দোষ ওর বাপ মার—যারা এমন অসাবধান। ঝাঁটা মারা উচিত তাদেরই মাথায় ।” গহিণী বলিলেন, “হ্যাঁ, অসাবধান! জেনে শুনেই তারা এমনটা ঘটতে দিয়েছে। গোড়া থেকেই আমি তোমায় বলিনি, ও ছোট-লোকের মেয়েকে ঘরে এন না। তুমি কি আমার কথা তখন শনলে ? বউয়ের রূপ দেখে একেবারে গ’লে গেলে । এখন রপে ধয়ে ধয়ে খাও। ছোটলোক-ছোটলোক ! মেয়ের রোজগার খাচ্ছিল, বুঝতে পারছ না ? নইলে পৌষের তত্ত্বে অত টাকা খরচ করলে কোথা থেকে ? উদ খেতে ক্ষদ নেই যার, সে জামাইকে দেড়শো টাকা দামের শাল দিতে পারে ? পজোর-তত্ত্বও ত দেখেছিলে!” দেড়শো টাকা দামের শাল কোথা হইতে আসিল, অন্য অবস্থা হইলে আমি এখনই তাহা প্রকাশ করিতাম। কিন্তু প্রকাশ করিয়া ত কণামাত্র ফল নাই! জিজ্ঞাসা করিলাম, “বাড়ীর আর কেউ এ কথা জানতে পেরেছে ?” গহিণী বলিলেন, “না, বোধ হয় না ।" 呼 বলিলাম, “তা হলে খুব সাবধান, কেউ কিছল যেন জানতে না পারে। আমি নিজে গিয়ে বউমাকে তার বাপের বাড়ী রেখে আসবে। এখন।” “রেখে এস, কিন্তু আজই। আজ তেইশে ফালগন, আজ রাতেই ছেলে বাড়ী এসে পৌছবে মনে আছে ত ?” - “হ্যাঁ, তা তো মনে আছে। আচ্ছা, আজই গিয়ে রেখে আসি। তেল দাও, যাই সনানটা সেরে ফেলি।” বেলা একটার সময় গরর গাড়ী ঠিক থাকিতে বলিয়া স্নান করিতে গেলাম। স্নানান্তে আসিয়া পাতের কাছে বসিলাম মাত্র । ভাতের গ্রাস গলা দিয়া নামিতে চাহে না । চোখ ফাটিয়া কেবল জল আসে। o অন্ধেক ভাত ফেলিয়া উঠিয়া পড়িলাম। বলিলাম, “বউমাকে চারটি খাইয়ে দাও । ছেলে এসে পৌছবার আগেই বেরিয়ে পড়া দরকার।” _ খাটের উপর বসিয়া তামাক খাইতেছিলাম। গহিণী আসিয়া বলিলেন, “গাড়ী সদর দরজায় এসে দাঁড়িয়েছে। দরগা বলে বেরিয়ে পড়।” “বউমা খেয়েছেন ?” “না, কিছুই খায়নি। আমারও মনের অবস্থা এমন নয় যে, পীড়াপীড়ি করি। চলোয় যাক-ওর ত এখন মরাই মঙ্গল।” “এই কাল মোটে বউ এল। আজই হঠাৎ আবার বাপের বাড়ী চলল, লোকে জিজ্ঞেস করলে কি বলবে ?” - “বলবো কি, বলেছি। বলেছি যে বেয়াই কাল রাতে বাড়ী ফিরে গিয়েই দেখলেন, তার পরিবারের কলেরা হয়েছে। বাঁচবার আশা কম। তখনই লোক ছটিয়ে দিয়েছিলেন মেয়েকে আনবার জন্যে। অপর লোকের সঙ্গে না পাঠিয়ে কত্তা নিজেই যাচ্ছেন তাঁকে