পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জামাতা বাবাজী আমি বড় বিপদে পড়িয়ছি। আজ প্রায় এক মাস হইতে চলিল, আমার একমাত্র জামাতাটি নিরদেশ, অথচ কারণ কিছুই জানা যায় নাই। রাজসাহী জিলা-স্কুল হইতে ম্যাটরিক পাস করিয়া বাবাজী (তখনও আমার জামাতা হন মাই) কলিকাতায় গিয়া কলেজে ভত্তি হন। দই বৎসর তথায় পড়িয়া, আই-এ পরীক্ষা দিয়া বৈশাখ মাসে তিনি রাজসাহীতে পিতার নিকট ফিরিয়া আসেন। পিতা তাঁহার রাজসাহীর প্রসিদ্ধ গভর্ণমেণ্ট প্লীডার রায় শ্ৰীযন্ত শশিশেখর দত্ত বাহাদর। সেই সময় তাঁহার এই পত্র শ্ৰীমান পণচন্দ্রের সহিত আমার কন্যা লীলাবতীর বিবাহসম্মবন্ধ হয়। ৮ই শ্রাবণ বিবাহ হইল—তখন সপ্তাহখানেক মাত্র গেজেট বাহির হইয়াছিল, বাবাজী দ্বিতীয় বিভাগে পাস হইয়াছিলেন। পাজার ছটীতে বাবাজী রাজসাহী আসিলে, আমি তাঁহাকে নিমন্ত্ৰণ করিয়া নিজ গহে আনিয়াছিলাম। এক সপ্তাহকাল বাবাজী আমার নিকট ছিলেন, কিন্তু তখন ত এ বিপত্তির কিছুমাত্র সচেনা আমি পাই নাই । কলেজ খলিবার অব্যবহিতপবে বাবাজী আবার আসিয়া তিন দিন ছিলেন, বস্তুতঃ এখান হইতেই তিনি কলিকাতায় রওয়ানা হয়েন, তখনও ত আমাদিগকে এ বিষয়ের কিছুমাত্র আভাস তিনি দেন নাই! কলিকাতায় ফিরিয়া গিয়া মাসখানেক বাবাজী যথারীতি পরাদি লিখিয়াছিলেন,— তার পর হইতে নিস্তব্ধ। বাবাজীকে পত্র লিখিয়া উত্তর পাই না। খকেী, পাবে যে প্রতি সপ্তাহে তাঁহার পত্র পাইত, সে-ও কোনও পর পায় নাই। তিন সপ্তাহ এইরুপ ভাবে কাটিলে ব্যাকুল হইয়া বৈবাহিক মহাশয়কে রাজসাহীতে পত্র লিখিলাম, তাঁহার উত্তরে জানিলাম, তিনিও তিন সপ্তাহ পত্রের কোনও পত্র পান নাই। . পত্রকে জবাবী টেলিগ্রাম পাঠাইয়াছিলেন, তাহা ফেরৎ আসিবার পর, অনুসন্ধানাথে নিজ মাতুলকে কলিকাতায় পাঠাইয়া দিয়াছিলেন। ৰাসার ছেলেরা নাকি বলিয়াছে, “কেন ? পাণ ত আজ তিন সপ্তাহ হ’ল, বাড়ী চলে গেছে।”—বাড়ী যায় নাই শনিয়া বাসার ছেলেরা অত্যন্ত বিস্মিত হইয়াছিল। কোথায় সে গিয়াছে, উহা তাহারাও অনুমান করিতে অসমথ। বৈবাহিক আরও লিখিয়াছেন, “ছেলের এরপে ভাবে নিরদেশ হইয়া যাইবার কারণ কি ? শেষবার যখন আপনার ওখানে গিয়াছিল, সে সময়ে বউমর সহিত তাহার কোনও ঝগড়া-কলহ হইয়াছিল কি না, সন্ধান লইবেন ত!” কন্যার নিকট জানিয়া আসিয়া গহিণী বলিলেন, “না, সে রকম কিছুই ত হয়নি।”—আমিও সেই মন্মে বেহাই মহাশয়কে পত্র লিখিয়া দিলাম। এই ত অবস্থা! আমি এখন কি করি বলন দেখি ! - বেহাই মহাশয় ত বেশ নিশ্চিন্ত ও নিক্ৰিয় আছেন দেখিতেছি । তাঁর আর দই পত্র আছে, তিনি নিক্ৰিয় থাকিতে পারেন, কিন্তু আমার যে ঐ একমাত্র কন্যা ! শধে তাহাই নহে, আমার পরলোকগতা প্রথমা পত্নীর একমাত্র সমতিচিহ্ন—আমার বড় আদরের ধন। আমার খাতুরাণীর মুখে আর হাসি দেখিতে পাই না, সব্বদাই মুখখানি তার বিষন্ন, চক্ষ দুইটি ছলছল করে। এখন আর নিতান্ত বালিকাটি নাই, চৌদ্দ বছরে পড়িয়াছে, জ্ঞান-বাধি হইয়াছে, সবই বঝিতে পারে ত! তাহার বিষাদ-মলিন মুখখানি দেখিলে আমার বকের ভিতরক্ট । হাহাকার করিয়া উঠে। s ছেলেটি ভাল দেখিয়া, মহাশয়, প্রায় পাঁচ হাজার টাকা খরচ করিয়া ওখানে মেয়ের বিরাহ দিয়াছিলাম। আমার মত অবস্থার লোকের, এক মেয়ের বিবাহে, পাঁচ হাজার+