পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২৮৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


छाञाज्रा बाबाछौ ૨૧૩ আসে।”-জ্ঞানদা-ঠাকুরাণী বলিয়াছেন, ইহা একেবারে অব্যথা—এই কথা শনাইয়া, অনেক গহস্থকে তিনি চিঠি আনাইয়া দিয়া নিশ্চিত কবিয়াছেন,—তবে ভক্তি থাকা চাই। কিছতেই কিছ হইতেছে না দেখিয়া গহিণী বললেন, “তুমি নিজে একবার কলকাতায় গিয়ে সন্ধান কর। বাসার ছেলেরা নিশ্চয় জানে সে কোথায় গেছে, বেয়াইয়ের মামার কাছে সে কথা তার গোপন করেছে । তাদের বাপ-বাছা বলে খোসামোদ করে । কথা বের করে নাও গে। মেয়েটার মুখপানে ত আর তাকানো ধায় না!” অদ্য আহারাদির পর কলিকাতা ষাত্রা করিব সিথর করিয়াছি। গোরর গাড়ীও বলিয়া রাখিয়াছি। বেলা তখন এগারটা। স্নানের পথে বৈঠকখানায় বসিয়া তামাক খাইতেছি, হঠাৎ নজর পড়িল, বড়িয্যেদের পোড়ো ভাঙ্গা বাড়ীর উঠান দিয়া, লাল পাগড়ী মাথায় ব্যাগ কাথে পিয়ন আসিতেছে। একদটে তাহার পানে তাকাইয়া রহিলাম—দেখি এই দিকেই আসে কি না। বকেটা দরে দরে করিতে লাগিল। এই যে, এই দিকেই ষে আসে ! পিয়ন আসিয়া প্রণাম করিল। তার পর হস্তস্থিত একগোছা চিঠির মধ্য হইতে বাছিয়া একখানি আমার হাতে দিয়া প্রসথান করিল। খামের চিঠি। আমি তাড়াতাড়ি ভিতর হইতে চশমা আনিয়া চোখে দিয়া ঠিকানা পড়িলাম। জয় বাবা সত্যনারায়ণ ! জয় বাবা নীলকুল বাসুদেব! খকের নামে চিঠি, জামাতার হস্তাক্ষর ! কোথা হইতে লিখিল, জানিবার জন্য টিকিটের উপরকার ছাপটা পরীক্ষা করিলাম, কিন্তু তেল-কালী, এমন ধ্যাবড়াইয়া গিয়াছে যে, কিছুই নিণয় করিতে পারলাম না। যাহা হউক, বাবাজী যে প্রাণগতিকে ভাল আছেন, ইহাই আপাততঃ পরম লাভ মনে করিয়া, দ্রতপদে বাড়ীর ভিতর গিয়া গাহিণীকে ডাকিলাম। তিনি আসিলে হাসিমুখে বলিলাম, "বাবা সত্যনারায়ণ, বাবা নীলকুল বাসদেব মুখ তুলে চেয়েছেন। এই নাও তোমার জামাইয়ের চিঠি, খাকীকে দাও গে। আর তাকে জিজ্ঞাসা করে এসে আমায় বল, জামাই কোথা আছেন, কেমন আছেন, কবে বাড়ী আসবেন। আমি ঘরে গিয়ে বসছি।” কিয়ৎক্ষণ পরে গহিণী চিঠি হাতে করিয়া ফিরিয়া আসিলেন,—তাঁহার মুখখানি গম্ভীর, চোখ দটি ছলছল করিতেছে, সে মাত্তি দেখিয়া আমার কিছুক্ষণ পাবেীকার সমস্ত আনন্দ উৎসাহ কোথায় উড়িয়া গেল। আমি ভীতভাবে তাঁহার মুখপানে চাহিয়া ब्रश्ळिाश । গহিণী চিঠি আমার হাতে দিয়া বলিলেন, “পড়।” বলিলাম, "কেন ? জামাই লিখেছেন মেয়েকে চিঠি, আমি পড়বো কেন ?" “পড়, দোষ নেই। আমিও পড়েছি। মেয়ে ত চিঠি পড়েই আছাড় খেয়ে পড়েছে। আমায় বললে, মা, চিঠি বাবাকে দেখাও, যা করতে হয়, তিনি করন।” কম্পিত হতে খাম হইতে চিঠি বাহির করিয়া পড়িলাম। পড়িয়া আমার মাথা | গেল, চোখে অন্ধকার দেখলাম। চিঠিতে এইরুপ লেখা ছিল— “সাৗধন্ধ ! আমি মাসখানেক নানা গরে্তর কয্যে এতই ব্যস্ত ছিলাম যে, তোমায় চিঠি লিখিবার তিলমাত্র অবসর পাই নাই। আমরা কয়েক জন যবেক মিলিয়া সন্তানধৰ্ম্মম অবলম্বন করিয়াছি। তুমি আনন্দমঠ পড়িয়াছ কি না, জানি না যদি পড়িয়া থাক, তবে সন্তান কাহাকে বলে, তাহা নিশ্চয়ই অবগত আছ। জননী জন্মভূমিকে পরাধীনতা-শঙ্খল হইতে মন্ত করাই সন্তানের জীবন-ব্ৰত। কলিকাতা হইতে "যুগান্তর” নামে আমরা একখানি সাপ্তাহিক পত্র বাহির