পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


戦bo शृश्-विश्वाणिौ। గా శాধ, বাবাকে বলিয়া তুমি তাহার গ্রাহক হইয়া নিয়মিতভাবে উহা | আমি দল গঠন করিয়া আপাততঃ গ্রামে গ্রামে স্বদেশী মন্ত্র প্রচার করিতে বাহির হইয়াছি। কবে কোথায় থাকি, কিছরই স্থিরতা নাই। যে স্থান হইতে এই পত্র তোমায় লিখিতেছি, কলাই সে স্থান পরিত্যাগ করিয়া যাইব । মার শঙ্খল যত দিন না ভগন করিতে পারি, তত দিন আমাদের গহ-সংসার নাই, পিতামাতা নাই, সত্ৰী পত্র নাই—কিছুই নাই। আছে কেবল দেশ। (আনন্দমঠ দেখ) এ জীবনে এ পবিত্র ব্রত যদি উদযাপন করিতে পারি, তবেই গহে ফিরিব, তোমার সঙ্গে আবার আমায় মিলন হইবে, আবার আমি সংসারী হইব; নচেৎ এই শেষ। তুমি আমার সহধৰ্ম্মিমণী, আমার বিশ্বাস অাছে যে, ধৰ্ম্মপথে তুমি আমার সহায় হইবে, বিঘ্যরপিণী হইবে না। বিভূপদে সতত প্রার্থনা করিবে, যেন আমাদের উদ্যম সফল হয়, মনোবাঞ্ছা পণ হয়, ব্ৰত উদযাপনান্তে এক দিন গহে ফিরিতে পারি। ইতি— - দেশমাতার সন্তান শ্রীপণানন্দ ব্রহ্মচারী।” পনেশচ। পত্ৰখনি পড়িয়া ছিড়িয়া ফেলিবে, কারণ, আদর-ভবিষ্যতে বাড়ী খানাতল্লাসী হওয়া বিচিত্র নহে। পত্র পড়িয়া গহিণীর হতে উহা ফেরত দিয়া, দই হাতে দুই রগ টিপিয়া, বালিস বকে দিয়া, কিছুক্ষণ আমি শয্যায় পড়িয়া রহিলাম। অগ্রহায়ণ মাসের শীতেও দেহ হইতে দর-দর করিয়া ঘাম ছয়টিতে লাগিল। “ও মা, কি বিপদ হ’ল গো! বিপত্তে মধ্যসদন । বিপত্তে মধ্যসদন।”—বলিতে বলিতে গহিণী আমায় পাখার বাতাস করিতে লাগিলেন । , মিনিট পাঁচেকে আমি একটু সামলাইয়া উঠিলাম। গহিণীকে বলিলাম, “তুমি মেয়ের কাছে ফাও, এখানে কি করছ? তাকে সামলাও গে।” গহিণী চলিয়া গেলে আমি ভাবিতে লাগিলাম, এত দিন মনে মনে আশা ছিল, বেহাইমহাশয় সাহেবদের প্রিয়পাত্র অন্যগত লোক,—ছেলেটা বি-এ পাস করিলে সাহেবদের ধরিয়া তাহাকে তিনি একটা ডেপুটী করিয়া দিতে পারবেন। অন্ততঃ পক্ষে আইন পাসের পর মন্সেফী পদ দেওয়াইতে পারবেন, মেয়ে আমার হাকিমের পরিবার হইবে। সে সব আশা-ভরসা সমস্তই ফসর্ণ হইয়া গেল ! ক্ৰমে মনে ক্ৰোধের সঞ্চারও হইল। তোর কি বাপ সমস্তই অৰ্জ্জুত ? স্বদেশী হয়ে একেবারে গহত্যাগ ! কেন রে বাপ, এত বাড়াবাড়ি কেন ? যা রয় বসে, তাই করলেই ত হয় ! স্বদেশী হয়েছিস, বেশ ত ; মায়ের দেওয়া মোটা কাপড় পর, দেশী চিনি, করুকচ নমণ ব্যাভার কর, বিড়ি খা—কেউ ত মানা করছে না। একেবারে গহত্যাগ, পত্নীত্যাগ ! তাই যদি তোর মনে ছিল, তবে এক ভদ্রকন্যাকে বিবাহ করে তার সব্বনাশ कब्रबिन कन ? 劇 তখন মনে পড়িল যে, বিবাহের সময় এরপে মনোভাব তাহার ত ছিল না! স্বদেশীর ঢেউ ত পর্বোবধিই উঠিয়াছিল। বিবাহে, পাজার তত্ত্বে, বিলাতী জনতা, সিকের বিলাতী ছাতা, বিলাতী সাবান, এসেলস প্রভৃতি প্রসাধন-দ্রব্য কত তাহাকে উপহার দিয়াছি, সে সব ত হাসিমখেই সে গ্রহণ করিয়াছে ও ব্যবহার করিয়াছে দেখিয়াছি। তবে এবার কলিকাতায় ফিরিয়া সে এমন উৎকট স্বদেশী হইয়া উঠিল কি করিয়া ? এ অবস্থায় আমি আর কলিকাতায় গিয়া কি করিব ? তার চেয়ে বরং রাজসাহী গিয়া বৈবাহিকের সঙ্গে দেখা করিয়া, এ বিপদে কি উপায় অবলম্বন করা যাইতে পারে, তাঁহার সহিত পরামর্শ করি। গহিণী ফিরিয়া আসিলে সেই কথাই তাঁহাকে বলিলাম,