পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২৯০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


総げミ - গল্প-গ্রন্থাবলী কাল ঐ চিঠি পেয়ে, মামাকে পাবনা পাঠিয়ে দিয়েছি। পাবনায় গিয়ে প্রথমে সে খবর নেবে, চন্দ্রপরে কোথা। তারপর চন্দ্রপরে গিয়ে সন্ধান নেবে, সেখান থেকে সেই দল কোথায় গেছে। এই রকম করে যদি তাদের ধরতে পারে।” কে ? সেই, যাঁকে কলকাতায় পাঠিয়েছিলেন ? আপনার কি রকম 5ाञा ट्रेन ?” “দর-সম্পক। সম্বন্ধে মামা হলেও, আমার চেয়ে অন্ততঃ বছর দশেকের ছোট। ৷ দেশে থাকতো, অবস্থা খারাপ, এখানে আমার কাছে আসে চাকরীর চেন্টায়। চাকরী বাকরী কিছু জটিয়ে দিতে পারিনি, তবে জজ-আদালতের নকল-সেরেস্তায় বলে দিয়েছি, ঠিকেঠাকা কাজ করে কিছু কিছু উপাত্তজন করে। বাকী সময় টাউটগিরি করে উকীলদের কাছে মক্কেল ধরে নিয়ে যায়, ফীয়ের টাকা থেকে কিছু কিছু কমিশন পায়। লোকটা খুব চালাক চতুর আছে।" “তার কথা কি ছেলে মানবে ?” "ছেলের গভর্ণধারিণী অনেক কাঁদকাটা করে এক চিঠি লিখে দিয়েছেন, সেই চিঠি মামা নিয়ে গেছে। কিন্তু ধরতে পারলে তবে ত!” সকল দিক চিন্তা করিয়া, মামা না ফেরা পৰ্য্যন্ত এইখানেই অপেক্ষা করিব সিথর করিলাম। পরদিন সকল কথা বর্ণনা করিয়া বাড়ীতে পত্র লিখিয়া দিলাম। চারিদিন পরে মামা ফিরিয়া আসিলেন। ছেলের দেখা পান নাই, তবে এইমাত্র জানিতে পারিয়াছেন যে, ঐ পত্র লেখার তারিখ হইতে তিন দিন পরে, সেই সবদেশীর দল রেলে উঠিয়া কোথায় চলিয়। গিয়ছে। স্টেশনে গিয়া টিকিট আপিসেও অনুসন্ধান করিয়াছিলেন, কিন্তু কিছরই নির্ণয় করতে পারেন নাই। বৈবাহিক বলিলেন, “ষাক আর ভেবে কি হবে ? অদস্টে যা আছে, তাই হবে। এখন বাবাজী যদি কেবলমাত্র স্বদেশী প্রচার করেই ক্ষান্ত হন, তা হলেও রক্ষে। কিন্তু ঐ যে লিখেছে আদর-ভবিষ্যতে বাড়ী সাচ্চ হওয়া বিচির নয়, এ থেকে ভয় হয়, হয় ত স্বদেশী ডাকাতি-টাকাতি করারও মংলব আছে। তা হলেই ধরাও পড়বেন, আর বছর চার পাঁচ শ্রীঘরে বাস। কয়েক পথানেই ত সবদেশী ভাকাতি হয়ে গেছে—ওঁরা ঐ রকম করেই ত দেশ উদ্ধার করার জন্যে অথ* সংগ্রহ করেন কিনা! আজকাল এ সব বিষয়ে গভর্ণমেণ্টের খুব কড়া নজর। মহকুমায় মহকুমায়, থানায় থানায় সাকুলার গেছে।” ” ক্ষণ-মনে বাড়ী ফিরিয়া আসিলাম। বাবাজী গ্রেপ্তার হইলে সে কথা খবরের কাগজে বাহির হইবে। বাড়ী আসিয়াই তাই কলিকাতার দৈনিক বসুমতী সংবাদপত্রের গ্রাহক হইলাম। কাগজের ঠিকানা প্রভৃতি রাজসাহী হইতেই টনকিয়া আনিয়াছিলাম। দিনের পর দিন কাটিতে লাগিল। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই স্বদেশীওয়ালাদের কর্তৃক খনে বা ডাকাতীর সংবাদ বাহির হয়। খানাতল্লাসী, গ্রেপ্তার, বিচার ও কারাদণ্ডের কথার ত বিরাম নাই। খবরের কাগজের মোড়ক খুলিবার সময় আমার হাত কাঁপে— খলিয়াই হয় ত দেখিব, খন বা ডাকাতি অপরাধে আমার জামাই গ্রেপ্তার হইয়াছে। মাঘ, ফালগন, চৈত্র কাটিল, বৈশাখ আসিয়া পড়িল। একদিন এক ভীষণ সংবাদ পাঠ করিলাম। মজঃফরপরের উকীল কেনেডি সাহেবের সত্রী ও কন্যা, পথানীয়, জজ কিংসফোড সাহেবের গাড়ীতে রাত্রে ক্লাব হইতে বাড়ী ফিরিতেছিলেন, কে বা কাহারা সে গাড়ীতে বোমা মারিয়া কিংসফোড সাহেব ভ্ৰমে মেমবিয়কে হত্যা করিয়া পলাইয়াছে —জোর পলিস-তদন্ত চলিয়াছে। পড়িয়া শরীর শিহরিয়া উঠিল। হা রে ভ্রাত নিবোধ পাষণ্ডগণ। এইরুপ মহাপাপ করিয়া তোরা দেশ উদ্ধার কারবি? সেই সত্য ஆண்ணிகம்