পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


૨૭૦ গল্প-গ্রন্থাবলী মনোরমাকে গহকায্য বেশী করিতে হয় না। বামন আছে, চাকর আছে, তা ছাড়া সরকার হইতে দুইজন জল-আচরণী কয়েদী পাওয়া যায়, তাহারা প্রাতে আসিয়া জল তোলে, বাসন মাজে, গ্রীষ্মকালে পাখা টানে। বিকালে পাঁচটার সময় তাহাদের অবশ্য আবার জেলে প্রবেশ করিতে হয়। সাংসারিক কাজ-কম তেমন নাই, কি করিয়া মনোরমার দিন কাটে ? তার স্বামী দুইখানি মাসিকপত্রের গ্রাহক—মাসের প্রথম সপ্তাহটা সেইগলি পড়িয়া কাটে। আর বাকী সাড়ে তিন সপ্তাহ ঃ উপন্যাস—তাও কালে-ভদে দই-একখানা কেনা হয় মাত্র। সুতরাং মনোরমার বড় কট। দই জেলরবাব প্রাতে উঠিয়া সা-পানান্তে সাতটার সময় আপিসে যান, আবার সাড়ে দশ কিংবা এগারোটায় বাড়ী আসিয়। সনানাহার করেন। তৎপরে দিবানিদ্রান্তে বেলা সাড়ে তিনটায় উঠেন এবং চারিটার সময় আবার আফিসে গিয়া দই তিন ঘণ্টা সরকারী কাৰ্য্য করিয়া থাকেন। আজ অাহারাদির পর মনোরমার যখন অবসর হইল, তখন বেলা বারোটা বাজিয়া গিয়াছে। মনোরমা পশ্চাতের বারামদায মাদর বিছাইয়া, খোলা চলের রাশি ছড়াইয়া দিয়া, একখণ্ড মাসিকপত্র হাতে লইয়া শয়ন করিল। চল শুকাইবার উদ্দেশ্যেই এ সময় এভাবে তাহার শয়ন । ভিতরের ঘরে পালঙ্কের উপর তাহার স্বামী নিদ্রিত, বড় ছেলে নগেন স্কুলে গিয়াছে, ছোট খোকা অনেক দুটামি করিবার পর অবশেষে পিতার পাশে শইয়া ঘুমাইয়াছে। মনোরমা পত্রিকার ছবিগলি দেখা শেষ করিয়া, তার পর সচীপত্র পরীক্ষা করিতে লাগিল। এ সংখ্যায় কয়টা গলপ আছে, তাহই দেখিবার বিষয়। গল্প-সংখ্যার অপেতা দেখিয়া সে অত্যন্ত বিরক্ত হইয়া আপন মনে বলিল, “পোড়ারমখো কাগজওয়ালদের একটা যদি আক্কেল আছে ! কেবল প্রবন্ধ আর প্রবন্ধ, কচপোড়া খাও ! প্রবন্ধ নিয়ে ত মানুষ ধয়ে খাবে! হাতীর মত কাগজখানা—তিনটি মোটে গল্প ! এ পড়তে কতক্ষণই বা লাগবে ?”—বলিয়া প্রথম গলপটি পড়িতে আরম্ভ করিল। কিন্তু গল্পের অন্ধেকটা পড়া হইবার পর্বেই পত্রিকাখানি বকে করিয়া ঘুমাইয়া পড়িল। বেলা যখন আড়াইটা, তখন হঠাৎ মনোরমার ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল, কে তার পায়ে হাত দিয়া নাড়া দিতেছে। চক্ষ খলিয়া দেখিল, ঠিকাদারবাবর সত্ৰী সরোজিনী। “ও মা, তুমি !" বলিয়া মনোরমা উঠিয়া বসিল। চক্ষ মাছিতে মাছিতে বলিল, “কতক্ষণ এসেছ, ভাই ?” সরোজিনী বলিল, “তা প্রায় আধ ঘণ্টা হবে ?" “আধ ঘণ্টা চপ করে বসে আছ ? আমায় জাগালে না কেন ?” “আহা অকাতরে শায়ে ঘমেচ, তুলতে মায়া হ’ল। শেষে যখন দেখলাম, ঘন্ম আর ভাঙ্গে না, তখন কি করি, অগত্যা পাপ কাজটাই ক’রে ফেললাম। তা দিদি, খবর সব ভাল ত ? ছেলেপিলে ভাল আছে ? দশ-বারো দিন আসতে পারিনি, মেঝ ছেলেটার জবর হয়েছিল।” মনোরমা বলিল, “ফটিকের জবর হয়েছিল ? কি জবর ? কেমন আছে, এখন বেশ সেরে উঠেছে ত?” সরোজিনী বলিল, “হ্যাঁ ভাই, এখন সেরে উঠেছে তোমাদের আশীব্বাদে। সন্দিজদরই হয়েছিল, তব ভাবনা ত কম হয়নি ! চার দিন হ’ল জরটা ছেড়েছে, কাল দটি