পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/২৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বি-এ পাশ কয়েদী ২৯১ মাছের ঝোল ভাত খেয়েছে । তোমাদের খবর সব ভাল ত ?” “হ্যাঁ ভাই, আমরা ভালই আছি। বোসো একট, চোখে-মুখে জলটা দিয়ে আসি। এই মাসিকপত্ৰখানা ওলটাও ততক্ষণ।”—বলিয়া মাসিকপত্র নবাগতার হাতে দিয়া মনোরমা উঠিয়া গেল। sia সরোজিনী মাসিকপত্রের ছবিগলে দেখা শেষ হইলে, কাগজ রাখিয়া বারান্দার রেলিঙের ফাঁক দিয়া জেলের প্রাঙ্গণের দশ্য দেখিতে লাগিল;—বিশেষ দেখিবার তখন যদিও কিছল ছিল না। কয়েদীরা সব বাহিরে কাজ করিতে গিয়াছে, কেবল চারিজন কয়েদী প্রাঙ্গণ-মধ্যপথ পাকরিণী হইতে ঘড়া-ঘড়া জল তুলিয়া বাঁকে ঝালাইয়া কোথায় লইয়া যাইতেছে, আবার খালি ঘড়া লইয়া ফিরিয়া আসিতেছে। সরোজিনীর স্বামী ভূতনাথবাব এই জেলের ঠিকাদার। কয়েদীদের আহারের জন্য চাউল, দাইল, নর্ণ, তেল প্রভৃতি সমস্ত দ্রব্যই তিনি সরবরাহ করিয়া, মাসান্তে জেলরবাবর নিকট তাঁহার বিল দাখিল করেন। সরকারী হরকুম অনুসারে জেলরবাবকে প্রতি রবিবারে সহরে গিয়া খাদ্য-দ্রব্যাদির বাজার-দর জানিয়া অসিতে হয়, তজন্য তিনি গাড়ীভাড়া পাইয়া থাকেন। তিনি সেই জ্ঞান অনুসারে ঠিকাদারবাবর বিল সংশোধনাতে উহা পাস করেন। সুতরাং জেলরবাবর উপর ঠিকাদারবাবর অসীম ভক্তি। দেখা হইলেই অভূমি নত হইয়া পদধলি গ্রহণ করেন এবং অপর কেহ সেখানে উপস্থিত থাকিলে, কারণে অকারণে জেলরবাবর বিদ্যা, বন্ধি, ধামিকতা, এমন কি তাঁহার আকৃতি অবয়বের পয্যন্ত অজস্র প্রশংসা করিয়া উপস্থিত ভদ্রলোকগণকে প্রশন করিয়া থাকেন, “কি বলেন মশাই, অ্যাঁ ? আমি একটি বণও বাড়িয়ে বলছি ?” এ-দিকে আবার ঠিকাদার-গহিণীও, জেলর-গহিণীকে “দিদি" বলতে অজ্ঞান। বাড়ীতে গাই আছে, খটি দধের ছানা কাটিয়া সন্দেশ করিয়া আনিয়া দেয়, কুল পাকিলে কুলের আচার, কাঁচা আম উঠিলে কাসমন্দি ও আম-তেল প্রস্তুত করিয়া উপহার দেয়। বাজার হইতে উত্তম বোম্বাই আম কিনিয়া আনিয়া মনোরমাকে দিয়া বলে, “দেশ থেকে এসেছিল, আমাদের বাগানের অাম।” বাঙ্গাল-দেশের মেয়ে, ভাল সেখান কাঁথা সেলাই করিতে জানে, এবার জেলর-গহিণীর সন্তান-সম্পভাবনা হইলে কাঁথা সেলাই করিতে আরম্ভ করিবে, বলিয়া রাখিয়াছে। প্রায় দশ মিনিট পরে মনোরমা পাণের ডিবা ও দোক্তার কোঁটা হাতে করিয়া ফিরিয়া আসিয়া বলিল, “পাণ ক’টা সেজে আনতে দেরী হয়ে গেল, ভাই। চাকর-বাকরের সাজা পাণ আমার মরখে রোচে না জানই ত ” সরোজিনী বলিল, “হ্যাঁ, তা জানি বইকি, দিদি। কি চমৎকার যে তোমার পাণসাজা ! যে খেয়েছে, সেই জানে। উনি কি বলেন জান ? উনি বলেন, আমি এই যে কাজকম না থাকলেও নিত্যি জেলরবাবর বাড়ী যাই, সে কেবল গিন্নীঠাকরণের সাজা পাণ খাবার লোভে। আমায় বলেন তুমি তাঁর কাছে ঐ রকম পাণ-সাজা শিখে এস না কেন ? দিও ত দিদি, দ'এক দিন দেখিয়ে।” to: “আচ্ছা দেবো”—বলিয়া মনোরমা মুচকি হাসিল, কারণ, নিজ হাতে পাণ সে নিজের জন্যই সাজিয়া থাকে। অতিথি অভ্যাগত ত দরের কথা, স্বামীর পাণও সে কদাচিৎ সাজে ; কিন্তু সরোজিনী অপ্রতিভ হইবে বলিয়া সে আর তাহা প্রকাশ করিল না। পাণ ও দোক্তা সেবন করিতে করিতে দুইজনে গলপ করিতে লাগিল । দুই চারি কথার পর সরোজিনী বলিল, “ভাল মনে পড়ে গেল। আমাদের বাড়ীব পাশে যে উকীলবাব আছেন না—কেদার ভট্চাযি—তাঁদের দেশ থেকে একজন অনাথা স্মীলোক এসে রয়েছে। ভদ্রঘরের স্ত্রীলোক, জাতে ব্ৰাহ্মণ। তার তিন কুলে কেউ নেই, দেশে থাকতে খেতে পেত না, এখানে এসেছে—যদি কোনও ভদ্রলোকের বাড়ীতে একটা রধিনি-গিরি কাজ-কম জোটে। উকীলবাবরে বাড়ীতে আমি ত প্রায়ই যাই কিনা,