পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/৩১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


“প্রেমের ইন্দুজাল” లOA পাবে বসিয়া কাটান। তাঁহার বন্ধবেগ প্রত্যহ সষেমার অবস্থার সংবাদ লন। সষমা এখন অনেক সময় অজ্ঞান অবস্থায় থাকে। একদিন জ্ঞান হইলে সে স্বামীকে বলিল, “ওগো, দেখ আমি ভারি চমৎকার একটা স্বপন দেখেছি। যেন একটা প্রকাণ্ড বড় হল, তার শেষে টেজ, সেই স্টেজে যেন "প্রেমের ইন্দ্রজাল" প্লে হচ্চে, লোক একেবারে গিস গিস করছে। কত সব সাহেব মেম পৰ্য্যন্ত দেখতে এসেছে। তোমাকেও দেখলাম সেই সাহেব মেমদের দলেই। আমি যেন দোতালায় চিকের আড়ালে বসে আছি। আচ্ছা লীলা থিয়েটারের হলটা কি খুব বড় ?” অবিনাশবাব বলিলেন, "তাদের হল ত আমি দেখিনি। দু'তিন দিন শুধ, ম্যানেজারের বসবার ঘরে ঢুকেছিলাম।” “ওগো, তুমি যাও না একদিন, ম্যানেজার কি বলে জেনে এসো।” “তোমায় ফেলে কি করে আমি যাই বউ ?” "তা হোক, তুমি যাও একদিন। কালই যাও না, কলেজের পর। এত যখন দেরি হচ্ছে, তারা বোধ হয় নেবে ঠিক করেছে। ফিরে আসবার হ’লে এতদিনে আসতো বোধ হয়। ডায়মন্ড থেকে, অ্যাভিনিউ থেকে, বীণাপাণি থেকে ফিরতে ত এত দেরি হয়নি।” “আচ্ছা দেখি, যদি কাল সময় করতে পারি।”—বলিয়া অবিনাশবাব ঘড়ি দেখিয়া, রোগিণীর মুখে চামচে করিয়া বেদানার রস দিতে লাগিলেন। পরদিন প্রাতে ডাক্তারবাব আসিলে, অবিনাশবাব তাঁহাকে রোগিণীর অবস্থা, বিশেষ করিয়া ঐ সবগ্নদশন বত্তোন্ত, খলিয়া বলিলেন। ডাক্তারবাব বলিলেন, “মনটা অত খারাপ বলেই চিকিৎসার তেমন সফল পাওয়া যাচ্ছে না। ঈশ্বর করন লীলা থিয়েটার ওঁর নাটকখানি নেয় !" সেদিন কলেজের পর, পঞ্চাননকে সঙ্গে লইয়া অবিনাশবাব লীলা থিয়েটারে গমন করিলেন। ম্যানেজারবাব বললেন, “না মশাই বইখানি চলবে না—এই নিন" বলিয়া পাণ্ডুলিপি ফেরৎ দিলেন। গর পত্নীর রোগের অবস্থা, তাঁহার স্বপ্নদশন বক্তাত, ডাক্তারবাবর উপদেশ, পঞ্চানন সমস্তই অবগত ছিল। শিক্ষক ও ছাত্র অত্যন্ত বিমষ মনে ফিরিতেছিলেন। পঞ্চানন झठा९ झाँक्लाईझा यब्निळ्, “जान्न !" অবিনাশবাব দাঁড়াইলেন। পঞ্চাননের মুখ পানে চাহিয়া দেখিলেন, তাহার চক্ষ দুইটি ব্যাকুল মিনতি-পাণ। বলিলেন, “কি হে ?” পঞ্চানন বলিল, “স্যার, আমি একটা অন্যায় কম করবো—একটা মিথ্যে কথা বলবো, আমায় অনুমতি দিন। আমি মাকে গিয়ে বলবো, প্রেমের ইন্দ্রজাল’ লীলা থিয়েটার নিয়েছে—বই রিহাসলে পড়েছে—আসছে শনিবারের পরের শনিবারে প্লে আরম্ভ হবে।” অবিনাশ একটি দীঘনিঃশবাস ফেলিয়া বলিলেন, “ওঃ, চল । আচ্ছ! ভেবে দেখি ।” বড় রাস্তার মোড়ে আসিয়া অবিনাশবাব ট্রামের জন্য দাঁড়াইলেন। পঞ্চানন বলিল, "স্যার, আপনার বোধ হয় মিথ্যেকথা তেমন সহ্য হয় না, আপনার এখন বাড়ী গিয়ে কাজ নেই। আমি বাড়ী গিয়ে মাকে ঐ কথা বলিগে । তাঁকে বলবো যে বিশেষ কাজে আটকে পড়ে আপনি লীলা থিয়েটার যেতে পারেন নি, আমাকে পাঠিয়েছিলেন, আমি গিয়ে দেখলাম অ্যাকচয়ালি রিহাস’ল চলচে। তাই ছুটতে ছুটতে স্যারকে খবর দিতে এসেছি, স্যার কই ?” میی অবিনাশবাব বললেন, "আচ্ছা, তাই না হয় বলগে। আমি গোপালবাবর বাড়ীতে খানিক বসে তার পর যাব এখন।” - পঞ্চানন বলিল, “আর স্যার, খাতাখানি কাইণ্ডলি উপরে নিয়ে যাবেন না, বৈঠকখানা ঘরে দেরাজে বন্ধ করে তার পর উপরে যাবেন ।” “বেশ, তাই করবো।”—বলিয়া উভয়ে ট্রামে উঠিলেন। অবিনাশবাবু, চোরবাগানের