পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/৩১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তিন দিন পরে সক্ষমা অন্নপথ্য করিল। ডাক্তারবাবু বলিয়াছেন, যত শীঘ্ন সম্ভব ইহাকে বায়-পরিবত্তনে লইয়া যাওয়া আবশ্যক। পাজার ছয়টি হইতে সপ্তাহ মাত্র বাকী, সে সপ্তাহ অবিনাশবাব ছটি লইয়াছেন। শব্রুেবার দিন ছিল ভাল, ঐ দিন পঞ্জাব-মেলে তিনি সসীক চুণার যাত্রা করিলেন। চণারে সষেমার স্বাস্থ্য দিন দিন উন্নতিলাভ করিতে লাগিল। দই মাস পরে মন্ত্রীকে লইয়া কলিকাতায় অবিনাশবাব ফিরিয়া আসিলেন। বাড়ী আসিয়া সবেমা স্বামীকে জিজ্ঞাসা করিল, “হ্যাঁগা প্রেমের ইন্দুজাল' এখনও লীলা থিয়েটারে হচ্চে ?” “না,—তারা এখন অন্য বই আরম্ভ করেছে।” “তাইত ! আমাদের যে দেখা হল না।” “না, পেশাদারী থিয়েটারে, দেখা হল না বউ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ষে সখের দল আছে, লাটসাহেব কলকাতায় ফিরলেই তারা ইউনিভারসিটি ইনস্টিটাটে প্রেমের ইন্দ্রজাল’ অভিনয় করবে।” এ কথাটা সত্য-কাল্পনিক নয়। বলা বাহুল্য, এ বিষয়ে পঞ্চাননই ছিল প্রধান পাগড়া । সষমা সত্যই একদিন বিতলে চিকের আড়ালে বসিয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রগণ কর্তৃক ‘প্রেমের ইন্দ্রজাল'-এর অভিনয় দেখিল। অনেক সাহেব মেম আসিয়াছেন তাহাও দেখিল । দ্বিতীয় অঙ্কে ড্রপ পড়িলে কে এক সাহেব তাহার স্বামীর সহিত করমন্দান করিয়া হাসিয়া হাসিয়া কি সব কথা বলিতে লাগিলেন। তার পরেই সাহেব অন্য কতকগুলি সাহেব ও মেমের সহিত বাহির হইয়া গেলেন। বাড়ী আসিয়া সষমা জিজ্ঞাসা করিল, “হ্যাঁগা সে সাহেবটা কে গা ? তোমার সঙ্গে শেকহ্যান্ড ক'রে হাসতে হাসতে কথা কইছিল দেখলাম।” অবিনাশবাব বললেন, “সে সাহেব কে শুনবে ? বড় কেউকেটা নয়, স্বয়ং লাটসাহেব। তিনি যখন উঠলেন, আমাদের ভাইসচ্যাসলার আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে গিয়ে এই বলে পরিচয় ক’রে দিলেন-ইনিই এই নাটকের রচয়িত্রীর স্বামী—আমাদের একজন সম্মানিত অধ্যাপক ৷” “শনে লাটসাহেব কি বললেন ?” - “বললেন, তুমি ভাগ্যবান পরষ। তোমার প্রতিভাশালিনী পত্নীকে আমার সন্মান ও অভিনন্দন জানাইও।” ইহার পর সষমা যখন শুনিল যে “প্রেমের ইন্দ্রজাল” কোনও দিনই লীল থিয়েটারে অভিনীত হয় নাই, প্রোগ্রামখানি পয্যন্ত জাল, ঐ সংবাদ তাহার প্রাণ বাঁচাইবার জন্য সস্নেহ ষড়যন্ত্র মাত্র—তখন আর তার মনে বিশেষ দুঃখ হয় নাই। হারানো মেয়ে በ jቐ በ বহুকাল পশ্চিমে সমরবিভাগে চাকরি করিয়া ৫৭ বৎসর বয়সে সারদাবাব পেন্সন লইলেন। তাঁহার ইচ্ছা হইল, জীবনের শেষ বৎসর কয়েকটা পিতৃপিতামহের ভিটায় কাটাইরা দিবেন। -