পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/৩৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ष्तिष्ठौङ्ग दिनमानाध्यान्न মদীয়া জেলার অন্তগত দেবগ্রামের জমিদার পরলোকগত শ্ৰীষত্তে শিবদাস বন্দোপাধ্যায় মহাশয়ের বাটীতে চন্দ্রমোহন নামক একটি দরিদ্র ব্রাহ্মণ বালক পাকশালার সহকারীজপে নিযন্ত ছিল। ছেলেটি বড় চালাক, চতুর ও মিষ্টভাষী বলিয়া বাটীর সকলেই তাহাকে বিশেষ স্নেহ করতেন। সে মহেনরিদের সাধ্যসাধনা করিয়া দই চারিখানি বাঙ্গালা পভোক পাঠ করিয়াছিল। অতঃপর তাহার মনে গ্রন্থকার হইবার উচ্চাভিলাষ জাগিতে লাগিল। খানকতক কাগজ সংগ্ৰহ করিয়া, চন্দ্রমোহন পুস্তকাকারের একখানি मिया भाउा निलाई कब्रिज । छिष्ठान्न थथभ भाज्राज्ञ शब्रिज्ञा क्षद्भिग्ना दछु यफू कब्रिया उा श्रा লিখিলে। পরের পাতায় আর একটা ছোট ছোট করিযা ক খ লিখিল; তাহার পর কর, খল না লিখিয়া দই অক্ষরে ঐরপে অন্য অন্য কথা—কল, খগ-ইত্যাদি লিখিল; এইরাপে বদলাইয়া বদলাইয়া অথর্যন্ত ও অর্থবিহীন অসংযুক্ত বর্ণ শব্দরাশি স্থানে স্থানে সন্নিবদ্ধ করিল। পাড়ার ছেলেগলার নাম করিয়া, কে ছরিতে পা কাটিয়া ফেলিয়াছে, কাহার পড়িবার বই নাই, কে পাঠশালায় যায় না, কে তিন দিনে নতন বহি কুটি কুটি করিয়া ছিড়িয়া ফেলে, কে-ই বা তাহা যত্ন করিয়া পড়িয়া শেষে ছোট ভাইয়ের কাজে লাগাইযা দেয় কে বাড়ীতে আসিয়া নানারপ উৎপাত কবে, কে “লক্ষী” হইয়া পড়াশনা করে,—ইত্যাদি সমসাময়িক ইতিহাসে পাঠের পর পাঠ পণ করিয়া ফেলিল। পশতকের শেষে ১ হইতে ১ পয্যন্ত অঞ্চক এবং উপরে প্রত্যেকের নাম, তাহারও ক্রটি হইল না। এইরপে প্রথমভাগ রচনা শেষ হইল। মলাটের উপর স্বীয় চিত্রবিদ্যার অপবে নমনা রাখিযা বর্ডার প্রস্তুত করিল। তাহার পর যথাস্থানে লিখিল—“বর্ণপরিচয় প্রথমভাগ –চন্দ্রমোহন বিদ্যাসাগব প্রণীত। ’ বুঝি তাহার ধারণা ছিল, প্রথমভাগ লিখিতে পারলেই বিদ্যাসাগর উপাধি গ্রহণের অধিকার জন্মে! একদিন একজনকে জিজ্ঞাসা করিয়াছিল— “প্রথমভাগে ঐ যে গোপালেব, রাখালের কথা লেখা আছে, ও সব কি সত্যি ?” সে বলিল —“সত্যি না আরো কিছ । ও সব বানানো।” সেই অবধি সে মনে করিত, আমার প্রথমভাগে সমস্তই সত্যকথা রহিল, তবে আমার খানিই ভাল। একদিন কেমন করিয়া এই গ্রন্থকার-বালকের প্রথম উদ্যমখানি কত্তাদের চোখে পড়িল । তাঁহারা ইহা পাঠ করিয়া হাসিযাই আকুল হইলেন। বাটীর সকলে একত্র হইযা এই অপব্ব প্রথমভাগ শ্রবণ করিতে লাগিলেন। সকলেই বলিলেন,-"বাঃ চন্দোর! তুই রাতারাতি যে বিদ্যেসাগর হয়ে গেলিরে।” সকলে পরামর্শ করিলেন, এবার অবধি ইহাকে বিদ্যাসাগর নাম দেওয়া যাক। প্রথমে যুবকেরা তাহাকে অবিশ্রাতভাবে বিদ্যাসাগর বলিতে লাগিল; পরে বালকেরাও তাহাই ধীরল; ক্লমে কত্তারা, মহিলারা, ধরিলেন। অবশেষে কর্মচারিবগ, দাসদাসী, পাড়াপ্রতিবেশী, সকলেই চন্দ্রমোহনকে বিদ্যাসাগর বলিতে লাগিল। পাঁচ সাত বৎসর পরে, তাহার পাবনামের চিহ্নমাত্রও সে গ্রামে রহিল না; নবজাত বালকবালিকারা সে পরাতন নামের কোন সংবাদই পাইল না। এইরাগে কিছুকাল অতীত হইলে শিবদাসবাব একবার সপরিবারে কলিকাতাষ অসিলেন। এখন “বিদ্যাসাগর” তাঁহার প্রধান পাচক, সেও সগে আসিল । প্রাতঃস্মরণীষ বিদ্যাসাগর মহাশয়েব সহিত শিবদাসবাবার সম্প্রীতি ছিল। কলিকাতায় আসার কিয়দিন পরেই, শিবদাসবাবার সাদর আহবানে তাঁহার আবাসে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের শুভাগমন হইল। কত্তা গোপনে সকলকে সাবধান করিয়া দিলেন— জাজ আসল বিদ্যাসাগর আসিয়াছেন, খবরদার কেহ যেন আজ চন্দ্রকে বিদ্যাসাগর বলিয়া ডাকিও না। গহিণী ঠাকুরাণী হইতে আরম্ভ করিয়া ক্ষুদ্রতম ভূত্য বালকটাকে পর্যন্ত শিবদাসবাব স্বয়ং বিশেষ করিয়া সাবধান করিয়া দিলেন। সকলে বিশেষ চেষ্টা করিয়া