পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/৩৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পাজার চিঠি ෆ8O প্ৰবন্ন দেখিয়া ঘুম ভাগিলে বাকী রাতটুকু যদি আর ঘনমান না যায়, তবে সে স্বপ্ন সফল হইতে পারে; সুতরাং আর ঘুমাইব না স্থির করিলাম। কি করি? মনে করিলাম, একখানা, বই-টই লইয়া পড়ি; তাহার পর মনে হইল, যদিও না ঘাম পাইত, বই হাতে করিলে ত জাগিয়া থাকা একেবারেই অসম্ভব হইবে। এই ভাবিয়া তোমার কতকগুলি চিঠি বাহির করিয়া পড়িতে বসিলাম। এগুলি সব এবার তোমার গ্রীমের ছয়টির পর কলিকাতায় গিয়া লেখা। এক একখানি করিয়া চিঠি পড়িতে লাগিলাম, আর আমার অতীত দিনের কথাগুলি একে একে মনে উদয় হইতে লাগিল। এ দিনের সঙ্গে সে দিনের কত প্রভেদ ! আমি এখন যে অবস্থায় আছি, বোধ হয় প্রেমিক প্রেমিকার এই অবস্থাই সখের। আজ কাল আসিবে, ইহাতে বড়ই আনন্দ। যখন মিলন হয়, তখন কেমন করিয়া কোথা দিয়া যে দিন কাটিয়া যায়, কিছু বোঝা যায় না। তারপর বিরহের কুন্দন আরম্ভ হয়। তাহার পর যখন আবার পনেমিলনের দিন অত্যন্ত নিকটিয়া আসে, তখন বড় সুখ। সন্য উঠিবার অনতিপবে যেমন আকাশ বিচিত্র বণে চিত্রিত হইয়া উঠে, তেমনি এ সময়ও মনটাময় ছবি আকিয়া যায়। শনিতে পাই, সবগে চিরমিলন। তাহা কি তত সখের ? আমি যদি বিশবকমা হইতাম (বিশ্বকমাই সবগ গড়িয়ছিল, না কে ? কে জানে বাপ, রামায়ণ টামায়ণ অত আমাব মনে নাই) তবে এমন সবগ গড়িতাম, যে প্রতি প্রেমিক প্রেমিকার মনে হইত, আমার হদয়নিধি আজি কালি ফিরিয়া আসিবেন। যাহা হউক, তোমার চিঠিগুলি পড়িতে লাগিলাম, আর আমি যত কাঁদিয়াছি, যত নিঃশ্বাস ফেলিযাছি সব মনে পড়িতে লাগিল। তুমি যখন কাছে থাক, তখন মনে হয়, ছাড়িয়া গেলে নাকি আবার বাঁচিয়া থাকা যায়! সেই তুমি বিদেশে চলিয়া যাও, অথচ বাঁচিয়া থাকি, কিন্তু দগধ হইয়া বাঁচিয়া থাকি। বাড়ীতে এত লোকজন, ছেলেপিলে, কিন্তু সব যেন খালি খালি বোধ হইত। সমসত জিনিষপত্র যাহা তুমি ব্যবহার করিতে, সমস্ত যেন তোমাকে স্মরণ করিয়া কাঁদে মনে হইত। ঐ চেয়ারে তুমি বসিয়া পড়িতে, তোমার চেযারখানিতে আমি বসিয়া থাকিতাম। মনে মনে অনুভব করিতাম, আমি শ্ৰীমতী সরবালা দেবী নহি; আমি শ্ৰীষত্তে অমলেন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় বি-এ,-প্রেসিডেন্সী কলেজে এম-এ পাঠ করি, এবং সিটি কলেজে আইনের শ্রেণীতে হাজিরা লেখাইয়া অনোর অলক্ষিতে পাশ কাটাইয়া সরিয়া পড়ি; আপাততঃ ছয়টিতে বাড়ী আসিয়াছি। এই মনে করিয়া সরি’ ‘সরি বলিয়া ডাকিতাম; নিজেই সরি’ সাজিয়া তাহার উত্তর দিতাম; কত কথা হইত আমি ছটিয়া পলাইয়া গিয়া শয্যায় আরোহণ করিতাম। খোকাকে ঘমে পাড়াইতে পাড়াইতে তাহার মুখখানি দেখিতাম, ঠিক যেন ছোট তুমি ! মা বলেন, ছেলেবেলায় ঠিক তুমি খোকার মত ছিলে। খোকার পানে চাহিয়া চাহিয়া তব অনেক পরিমাণে সালম্বনা পাইতাম। সকলে বলে, মা ছেলেকে বেশী ভালবাসিবে, কারণ সেই কোমল শিশরে মুখে তাহার প্রিয়তমের মধমাত্তির আভাস দেখা যায়; এবং ঠিক এই কারণে বাপ মেয়েকে বেশী ভালবাসিবে। খোকাeযদি না হইত, তবে তোমার বিরহ কেমন করিয়া সহঃ করিতাম কে জানে । আমার বিরহকালে দ্বিতীয় সঙ্গী ছিল ঐ ঘড়িটি। অামার এ শয়নকক্ষে খোকা ছাড়া ঐ একমাত্র সজীব পদার্থ। অনেক রায়ে ঘমে ভাঙ্গিয়া যাইত। সমস্ত পথিবী নিস্তব্ধ, কিন্তু ও বেচারীর নিদ্রা নাই—টক টক টক টক। ভাবিতাম, এ আমাদের কি না জানে ? কি না দেখিয়াছে ? সেই ফলশয্যার রাত্রে আমাকে কথা কহাইবার জন্য BDD BBDDD BBB DDDD DDD BB 0T DBB BD DBB BBD DDBB গ্রহণের দশ্য পৰ্যন্ত সব কথার এ সাক্ষী আছে। ইহাকে কত কথা বলি কিন্তু কোনও কথা কাণে তুলে না, এই একটা এর ভারি দোষ । এ যদি আমার সাথে সখী হয়, দুঃখ