পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/৪১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


80 গল্প-গ্রন্থাবলী মানুষ নন? আপনি কে বলন।” ভানুমতীর খেলা।—কবিরাজ মহাশয অদশ্য। ধরা পড়িয়াই একদম অন্তস্থান। পারিতোষিকের ঘড়া-ঘড়া মোহর, মণিমন্তো, হাড়ী ঘোড়া সবই পড়িয়া রহিল। রাজা বোকা বনিয়া এদিক ওদিক চাহিতে লাগিলেন। বিস্ময় কতকটা অপগত হইলে, রাজা বলিলেন, “ইনি নিশ্চয়ই অবিনীকুমার-আমার পিতৃপরষের পণ্যফলে, আমায় এসে বাঁচিয়ে গেলেন। কিন্তু হায় হায় কি আপশোষ, শেলাকটি যে শেষ হল না। উপদেশটি যে অসম্পণে রয়ে গেল ! এখন উপায় ? কে এই শেলাকটির যথাথরপে পাদপরণ করে দিতে পারে?” সকলে বলিল, “কালিদাস ভিন্ন আর কেউ এ শ্লোক পরেণ করতে পারবে না। পারবে না কেন ? একটা বা তা দিয়ে শেলাক পরিয়ে, ষোল অক্ষর গণে দেখিয়ে দেবে এখন। বাধা না পেলে অশ্বিনীকুমার যা বলতেন, তা কেবল কালিদাসের মাখ থেকেই বেরবে, কেননা তাঁর জিহবাগ্রে মা সরস্বতী বাস করেন।” কালিদাসের ডাক পড়িল। তিনি আসিয়া পাদপসরণ করলেন—"স্নিগ্ধমকং চ ভোজনম।” সম্পণে শেলাকটি দাঁড়াইল— আশীতেনাভাসি স্নানং, পয়ঃ পানং, বরাঃ সিত্রয়ঃ। এতদ বো মানুষাং পথ্যং স্নিগ্ধমঞ্চেং চ ভোজনম ॥ অর্থাৎ হে মনুষ্যগণ, স্বাস্থ্যরক্ষার পক্ষে তোমাদের উৎকৃষ্ট পথ্য এইগুলি— "অ-শীতল জলে স্নান, দগ্ধপান, উত্তমা স্ত্রীগণের সঙ্গ, উষ্ণ এবং নিখ (ঘতাদিযুক্ত ) দ্রব্য ভোজন ।” —অতএব, পাঠকগণ, এখন হইতে জলকে সামান্য মাত্র গরম করিয়া স্নান করুন, ঘাত দণেধব বরাদ্দটা কিছর বাডাইয়া দিন—দিনের বেলা আপিস যাইতে হয়, গরম ভাত খাইয়াই থাকেন-রাত্রে বেশী দেরী না কবিয়া বাড়ী ফিরিবেন—নহলে ভাত ঠান্ডা হইয়া যাইবে, –এবং যাঁহাদের একটি মাত্র সী, তাঁহারা অন্ততঃ আর দুইটি সপাত্রীর সন্ধানে ঘটক লাগাইয়া দিন—কারণ শেলাকে আছে, “ত্রিযঃ”—একবচনও না বিবচনও না—একেবারে বহুবচন । আইনের গল্প (s) आज्रप्रैज्ञानीव्र कार्याङ्नी ষোড়শবর্ষীয়া যাবতী, এলোকেশী, তারকেশবরের মোহন্তের সহিত ব্যভিচারিণী হইয়াছিল বলিয়া, এলোকেশীর স্বামী তাহাকে খন করিয়াছিল। সেই ব্যাপার লইয়া একদিন বাঙ্গালা দেশে মহা হলপথল পডিয়া গিয়াছিল। সে সম্বন্ধে কত ছড়া কত গান উঠিয়াছিল, গ্রামে গ্রামে ভিখারীরা সেই গান গাহিয়া ভিক্ষা করিত। এলোকেশীর মত না হউক, মাতঙ্গিনীর ব্যাপারেও এক সময় বাঙ্গালা-দেশকে অত্যন্ত চঞ্চল করিয়া তুলিয়াছিল। মাতঙ্গিনী অথবা তাহার জার অথবা দইজনে মিলিয়া, মাতঙ্গিনীর স্বামীকে হত্যা করিয়াছিল। তাহার জাব পলাইয়াছিল—পলিস তাহাকে ধরিতে পারে নাই । মাতঙ্গিনীর যাবজীবন বীপান্তরের হকুম হয়। এই ঘটনাটি, বিখ্যাত সাহিত্যিক কৃষ্ণনগরনিবাসী রায় শ্ৰীযন্ত দীননাথ সানাল বাহাদরের মথে যেমন শনিয়াছি, নিনে তাহাই বর্ণনা করিলাম।