পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/৪১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8Oሆ গল্প-গ্রন্থাবলী হইল। ষোল সতেরো বৎসর বয়সে, কোনও দন্বত্তের সহিত সে কুলত্যাগ করে। এই ঘটনায়, লজ্জায় অপমানে আমরা মতপ্রায় হইয়াছিলাম, সমাজে আমাদের মাথা তুলিবার উপায় ছিল না। প্রথম প্রথম কোন আত্মীয়-বন্ধ তাহার কথা জিজ্ঞাসা করিলে আমরা বলিতাম, সে মরিয়া গিয়াছে। ক্ৰমে তাহার নামও আমাদের গহে আর উচ্চারিত হইত না। সে যে একদিন ছিল, ইহাও আমরা প্রায় ভুলিতে বসিয়াছিলাম। “এবার কলিকাতায় আসিয়া, মাল খরিদ শেষে, বাড়ী ফিরিবার পবেদিন সন্ধ্যায় ভাবিলাম, যখন কলিকাতায় আসিয়াছি, তখন একটু আমোদ-প্রমোদ করিয়া লই। তাই, সে পল্লীতে গিয়া, সে গহে প্রবেশ করিয়াছিলাম। গহবাসিনীরা যাহা যাহা বলিয়ছে সমস্তই সত্য। উপরে গিয়া আমি এ-ঘর ও-ঘর সে-ঘরের সামনে দাঁড়াইয়া, অবশেষে এই ঘরে প্রবেশ করিয়া, কপাট ভেজাইয়া দিয়াছিলাম। “কি গো তোমার নাম কি ?”— আমি এই প্রশ্ন করিবামার, অভাগিনী অতি বিস্মিতভাবে মুখ তুলিয়া চাহিল এবং আমার আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করিতে লাগিল। তাহার এই ব্যবহারে আমিও বিস্মিত হইয়া, তাহাকে ভাল করিয়া দেখিয়াই বঝিলাম, সে আর কেহ নহে, দশ বৎসর পবেকার কুলত্যাগিনী আমারই সেই ভগিনী। সেও অবশ্য আমায় চিনিয়াছিল। “হা ভগবান!”— বলিয়া, শয্যাপার্শবপথ দেওযাল-আলমারি হইতে একটা ক্ষর বাহির করিয়া, চক্ষের নিমেষে সে নিজ গলায় বসাইল। তাহার অভিপ্রায় বঝিয়া, তাহাকে বাধা দিবার উদ্দেশ্যে আমি ক্ষুবখানা তাহার হাত হইতে কড়িয়া লইলাম। কিন্তু তৎপবেই তাহার বাসনালী ছিন্ন হইয়া গিয়াছিল, সে বিছানাষ পড়িযা গোঁ গোঁ শব্দ করিয়া ছটফট করিতে লাগিল । তারপর লোকজন আসিয়া পড়িল।" - এই সমস্ত ব্যাপার অবগত হইবার পর, আসামী পক্ষের লোকেরা মতার কলিকাতা বাস সম্পবন্ধে অনুসন্ধান আবভ করিয়া দিলেন। এ বাড়ীতে আসিবার পবে সে কোন বাড়ীতে থাকিত, তার পবে কোন বাড়ীতে থাকিত, এইরুপ সন্ধান করিতে করিতে, ষে বাড়ীতে তাহার হরণকারী প্রথম তাহাকে আনিয়া রাখিয়াছিল, সে বাড়ী খুজিযা বাহির হইল। সে বাড়ীর বাড়ীউলি ও অন্যান্য সত্রীলোকগণ, নবাগতার সকল পরিচয়ই জানিত—তাহারা আসিয়া সাক্ষী দিয়া প্রমাণ করিল যে, আসামীর উক্তি যথাথ"। জজসাহেব উহা বিশ্বাস করিয়া আসামীকে বেকসুর খালাস দিলেন। কাজির বিচার পরোকালে পারস্য দেশের কোনও গ্রামে একজন অতি ধনবান ওমরাহ বাস করতেন, তাঁহার নাম ছিল নবাব কুদরতউল্লা খাঁ। তিনি ছিলেন সেই গ্রাম এবং চতুঃপাশ্ববত্তী" অনেকগুলি গ্রামের প্রবল প্রতাপান্বিত জমিদার। প্রকাণ্ড পাঁচমহল প্রাসাদে তিনি বাস করিতেন। প্রাসাদ-সংলগ্ন বাগানে এত গোলাপ ফটিত যে, তাহার সৌরভে চারিদিক অনেক দরে পয্যন্ত আমোদিত থাকিত। নবাব বাহাদর প্রত্যহ গোলাপ জলে স্নান করিতেন। নবাব বাহাদরের তখন যৌবন কাল; বয়স ৩০ বৎসরের অধিক হয় নাই; কিন্তু নিত্য কালিয়া পোলাও ও নানাবিধ শিরনী (মিস্টান্ন) আহার করিয়া তাঁহার দেহটি অত্যন্ত পথল হইয়া পড়িয়ছিল। দিবসের অধিকাংশ সময় তিনি অবলশ কাঠ নিমিত, লাল মখমল মণ্ডিত এক সোফায় শয়ন করিয়া কাটাইতেন। শয়ন করিয়া, সোণার ফসিতে