পাতা:গল্প-গ্রন্থাবলী (প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়) তৃতীয় খণ্ড.djvu/৪২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কাজির বৃদ্ধি 8షిపి ভবানী। “হাঁ সাহেব, দেখিতেছি বইকি। ধন্ম রসাতলে গেল। পাপ অত্যন্ত বাড়িয়া চলিয়াছে।” কাজি। “মামলা মোকদ্দমা এতই বাড়িয়া গিয়াছে যে, আমার ত মশায় খাটিয়া খাটিয়া প্রাণটা গেল। বিশেষ এখন বন্ধ হইয়াছি। সেদিন বাদশাহের দশ নলাভের সৌভাগ্য আমার হইয়াছিল। তাঁহার কাছে সকল কথা আমি বলিলাম। শনিয়া তিনি বলিলেন, ‘আচ্ছা কাজি সাহেব, আপনি বরং আপনার অধীনে দুইজন নায়েব-কাজি নিযুক্ত করন। তাহাতে আপনার শ্রম লাঘব হইবে এবং মামলা মোকদ্দমার শীঘ্র শীঘ্ৰ নিপত্তি হইবে । দুইজন উপযুক্ত লোক স্থির করিবার ভার আমি আপনাকেই দিলাম। এমন দুইজন জোক স্থির করিবেন, যাঁহারা খুব বিশ্বান, অত্যন্ত ধামিক, যাঁহাদের নামে শরতেও কোনও অপযশ করিতে পারে না। রাজকোষ তাঁহাদের উপযুক্ত বেতনও মঞ্জর করিব।” দরবার বরখাস্ত হইলে, আমি চলিয়া আসিতেছিলাম, বাদশাহ পুনরায় আমাকে ডাকিয়া বলিলেন, দেখন কাজি, দুইজন নায়েব-কাজি—একজন মসলমান, একজন হিন্দ হওয়া অবশ্যক। কারণ হিন্দ মুসলমান উভয়েই আমার সমতুল্য প্রজা। কিন্তু ঐ কথা স্মরণ রাখিবেন—এমন দইজন লোক চাই, যাঁহাদের নামে কোনও দিন কোনও শত্রুও কোন অধমের আরোপ করে নাই।’ তা, ভবানীশংকরজী—এ সহরের হিন্দদের মধ্যে আপনাকেই আমি অত্যন্ত বিশ্বান ও ধামিক বলিয়া জানি। আপনি কি এই কমটি গ্রহণ করিতে সম্মত আছেন ? মুসলমান একজনকে আমি স্থির করিয়াই রাখিয়াছি। যদি সম্মমত হন ত বলন, আগামী সোমবারে বাদশাহ আবাব আমায় তলব করিয়াছেন— সেই দিন এই বিষয়ে তাঁহার পরোষানা হসিল করিয়া আসিব ।” নায়েব-কাজিগিরি! এই দিল্লী সহরের ?—বেতন যাই হোক,—উপরি আয়ও যে বিলক্ষণ ! ভবানীশঙ্কর কাজি সাহেবকে বহর ধন্যবাদ দিয়া, কম গ্রহণে নিজ সম্মতি জানাইলেন। বহপতিবার সন্ধ্যার পর মাণেকচাঁদ আবার গিয়া ভবানীশঙ্করের দ্বারস্থ হইল। টাকার কথা বলিবামাত্র, আবার তিনি গালিমন্দ করিয়া মাণেকচাঁদকে তাড়াইয়া দিলেন। মাণেকচাঁদও, শনিবার প্রথম কাছারিতেই নালিস দায়ের কারবে বলিয়া শাসাইয়া গেল। মাণেকচাঁদ চলিয়া গেলে, কিছুক্ষণ পরে ভবানীশঙ্করের মনে হইল, “হায় কি করিলাম ! শনিবার দিন ও যদি আমার নামে ঐ কুৎসিত নালিস কাজি সাহেবের নিকট দায়ের করে, তবে ত আমার উপর কাজে সাহেবের সন্দেহ জমিতে পারে। তাহা হইলে আমার নায়েব-কাজিগিরি চাকরিটাও ত ফস্কাইয়া যাইলে দেখিতেছি। তার চেয়ে বরং মাণেকচাঁদের লক্ষ টাকার লোভটা পরিত্যাগ করাই যাউক । চাকরিতে বাহাল হইলে আমন কত লক্ষ ঘরে আসিবে।" - পরদিন প্রভাতেই ভবানীশঙ্কর ভূত্য পাঠাইয়া মাণেকচাঁদকে আবার ডাকাইয়া আনিলেন । বলিলেন, “বন্ধন তোমার মুখখানি অমন রাগ-রাগ কেন বলু দেখি। ঠাট্রা বোঝ না ভাই ! দই দিন আমি তোমার সহিত একট: ঠাট্টা করিলাম বইত নয়। এই নাও তোমার লক্ষ টাকাr भाटभकम्रौन प्लेका श्रीभज्ञा ठाष्ट्रेशा श्राद्दश् शीिव्रण। সোমবার দিন সন্ধ্যায় ভবানীশঙ্কর কাজে সাহেবের সহিত সাক্ষাৎ করিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “বাদশাহের পরোয়ানা বাহির হইল ? কলে হইতে আমায় এজলাস করিতে হইবে ?” কাজি সাহেব দুঃখিতভাবে ললিলেন, “না, মঞ্জরী পাইলাম না। বাদশাহ বলিলেন, দেশময় বড়ই দভিক্ষ বাধিয়াছে--প্রজারা অনাহারে মরিতেছে—তাহাদের খাদ্য জোগাইতেই রাজকোষ শান্য হইয়া যাইবে। এ বৎসর আর নায়েব-কাজি বাহাল করা হইবে না : একলাই আমার সব কাজ করিতে হইবে। দেখি, এ বড়ো হাড়ে কতদিন চালাইতে পারি *ি