কবি বলেন: বিস্মৃত বাল্যকালের মুহূর্ত্ত-স্থায়ী সুখ দুঃখের সহিত দুইদণ্ড খেলা করিয়া কে কোথায় ঝরিয়া পড়িয়াছিল··· এ গানগুলি আজ সাত আট বৎসর ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত হইয়া পড়িয়া আছে, আমি ছাপাইতে চেষ্টা করি নাই।
‘প্রকাশকের বক্তব্য’-শেষে আছে: ১২৯১ সনের শেষ দিন পর্যন্ত রবীন্দ্রবাবু যতগুলি সঙ্গীত রচনা করিয়াছেন প্রায় সেগুলি সমস্তই এই পুস্তকে দেওয়া গেল।
স্পষ্টই মুদ্রণপ্রমাদ। ‘গানগুলি’ স্থলে ’গানগুলির সুর’ হইবে।
মোহিতচন্দ্র সেন সম্পাদিত অষ্টম ভাগ কাব্যগ্রন্থ ১৩১০ বঙ্গাব্দে মুদ্রিত বা প্রকাশিত এই তথ্য উক্ত গ্রন্থের আখ্যাপত্র-অনুযায়ী ঠিক হইলেও সম্পূর্ণ সত্য নহে। অষ্টম ভাগের প্রায় শেষে (৩২৩-৩১ পৃষ্ঠায়) সন্নিবিষ্ট ‘মন তুমি নাথ লবে হরে’ ‘যে কেহ মোরে দিয়েছ সুখ’ ‘গরব মম হয়েছ প্রভু’ ইত্যাদি অন্তত আটটি গান যে ১৩১১ বঙ্গাব্দের ২০ জ্যৈষ্ঠ হইতে ২৩ আষাঢ়ের মধ্যে রচিত তাহা শ্রীসমীরচন্দ্র মজুমদার -সংরক্ষিত রবীন্দ্রপাণ্ডুলিপি দেখিয়া জানা যায়। মনে হয় শেষ ১৬ পৃষ্ঠার একটি ফর্মা এবং আরো ১ পাতা বা ২ পৃষ্ঠা বাদে সমুদয় গ্রন্থ ১৩১০ সালেই ছাপা হইয়া থাকিবে।
‘গান’এর এই দ্বিতীয় সংস্করণ বড়োই রহস্যময়। ইহার বিভিন্ন প্রতি মিলাইতে গিয়া দেখা গেল— সূচীপত্রসহ সমগ্র গ্রন্থের মুদ্রণ সারা হইলে, বহু গান বর্জনের ও সেই স্থলে নূতন গান সন্নিবেশের প্রয়োজন হয় এবং এজন্য স্পষ্টতই অনেকগুলি পাতা নূতন ছাপা হয়; সমস্ত সূচীপত্র পুনর্বার ছাপা সত্ত্বেও বহু বর্জিত গানের উল্লেখ থাকে, সেগুলি অধিকাংশই ছিল অন্যের রচনা। পরবর্তী ‘বর্জিত গান’এর তালিকায় চিহ্ন দিয়া বুঝানো হইয়াছে যে, † চিহ্নিত রচনা অপরিবর্তিত ‘গান’ (১৯০৯) গ্রন্থে থাকিলেও, পরিবর্তিত ও বহুপ্রচারিত কপিগুলিতে নাই— উহার ‘সংশোধিত’ সূচীপত্রে থাক্ বা নাই থাক্।
এই গ্রন্থের পরবর্তী সংস্করণসমূহে এক অংশ ‘ধর্মসঙ্গীত’ এবং অবশিষ্ট অংশ ‘গান’ নামে পৃথগ্ভাবে প্রকাশিত। সুতরাং ‘গান’ এই নামের পরবর্তী গ্রন্থ প্রথম ও দ্বিতীয় সংস্করণের অখণ্ড ‘গান’ হইতে বহুশঃ ভিন্ন।
জ্যোতিরিন্দ্রনাথের ‘বিমল প্রভাতে’ ইত্যাদি গানটিও আছে।
এই খণ্ডের পরিশিষ্ট-ধৃত গান-দুটির মেক-আপ প্রুফ শান্তিনিকেতন রবীন্দ্রসদনে সংরক্ষিত, তাহাতে তারিখ: 5/9/39 [১৯ ভাদ্র ১৩৪৬]