বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গুচ্ছ - কাঞ্চনমালা বন্দ্যোপাধ্যায়.djvu/১৫৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

গুচ্ছ।

আমার পরাণ যাহা চায়,
তুমি তাই তুমি তাই গো।
তোমা ছাড়া আর এ জগতে
মোর কেহ নাই কিছু নাই গো।

 ভাবিলাম রসময় বাবুর বাড়ী ফিরিয়া যাই, একখানা গাড়ী ভাড়া করিয়া চলিয়াছি, সে রাস্ত ছাড়িয়া বড় রাস্তায় পড়িয়াছি, এমন সময় পিছন হইতে কর্কশস্বরে কে আমার নাম ধরিয়া ডাকিল, ফিরিয়া দেখি বাল্যবন্ধু সতীশচন্দ্র। সে আসিয়া গাড়ীতে উঠিয়া বসিল এবং গাড়োয়ানকে শ্যামপুকুর যাইতে আদেশ করিল। তাহার পর গাড়ী চলিতে আরম্ভ করিলে সে আমাক লইয়া পড়িল। “তুই গিয়াছিলি কোথায়? তোর চাকর ত তোর,জন্য কাঁদিয়া আকুল। আজ তিনমাস যে তোর দেখা নেই, তুই গিয়াছিলি কোথায়? রামদীন একমাস তোর প্রত্যাশায় থাকিয়া আর পারিলন, আমার কাছে আসিয়া কাঁদিয়া পড়িয়াছিল। আমি তোর বাসা তুলিয়া দিয়া তোর জিনিষ পত্র আমার বাড়ীতে আনিয়া দেশে পত্র লিখিতে ছিলাম আর কি। তোর তিনকুলে কেউ নাই তাত জানি, তবু তোর জিনিষটা পত্রটা তোর জ্ঞাতিরা পাইবে।” সতীশচন্দ্র এক নিশ্বাসে কথা গুলি খুব চেঁচাইয়া বলিয়া হাঁফাইয়া উঠিল। সে চুপ করিলে আমি ধীরে ধীরে সকল কথা খুলিয়া বলিলাম। তাহা শুনিয়া তাহার চোখে জল আসিল। সতীশ মানুষটা বড় ভালো, সহজেই রাগিয়া উঠে, কিন্তু তাহার রাগ অধিকক্ষণ থাকেনা। আমার শরীর তখনও পূর্ব্বের ন্যায় সুস্থ ও সবল হয় নাই। সতীশ বাড়ী ফিরিয়া আমার শুশ্রুষা করিতে প্রবৃত্ত হইল, দুই তিন দিনের মধ্যে আমি আর তাহার হাত ছাড়াইতে পারিলাম না।

১৩৮