বশীকরণ।
এই সংবাদ শুনিয়া শোভা ভয় পাইল, সে ভাবিল, শিকার বুঝি বা হাত ছাড়িয়া পালায়। তখন শোভা তাহার তূণ হইতে মৃত্যুবাণটি টানিয়া বাহির করিল। সে তখন হইতে বিভাকে শিখাইতে বসিল, অনেক চেষ্টার পরে তাহাকে পাখীর মত পড়াইয়া সাজাইয়া গোজাইয়া নিশ্চিন্ত হইল। রাত্রিতে আহারের সময় পুলিন বিস্মিত হইয়া দেখিল যে সেখানে আর কেহই নাই, কেবল সুসজ্জিত হইয়া প্রভা দাঁড়াইয়া আছে। তাহাকে দেখিয়া পুলিন স্থির হইয়া দাঁড়াইল। ব্যাপারটা তাহার কেমন ভাল ঠেকিতেছিল না, সে জিজ্ঞাসা করিল “ঘোষাল মশাই কোথায়? প্রভা কোন উত্তর না দিয়া নখ খুঁটিতে লাগিল। উত্তর না পাইয়া পুলিন অস্থির হইয়া পড়িল, তাহার মন তাহাকে বাহিরে লইয়া যাইতে চাহিতেছিল, বলিতেছিল এখানে তোমার বড় বিপদ, তুমি এখানে থাকিওনা, ইহার তোমার ব্রত ভঙ্গ করবে। আবার কাহার, অব্যক্ত হৃদয় বেদনা, কাহার অস্ফুট করুণ ক্রন্দন আসিয়া যেন তাহার পায় জড়াইয়া ধরিতেছিল, বলিতেছিল তুমি যখন আসিয়াছ তখন আর যাইতে পাইবেনা, তুমি ছাড়া এজগতে আর আমার বলিতে কেহ নাই।
বিক্ষুব্ধ চিত্তকে শান্ত করিয়া পুলিন পলায়ন করিবার জন্য বদ্ধপরিকর হইল, মুখ ফুটিয়া বলিয়া ফেলিল “আমি বাহিরে যাই।” তখন হঠাৎ প্রভা তাহার হাত ধরিয়া ফেলিল, বলিল “না।” বিস্মিত হইয়া পুলিন জিজ্ঞাসা করিল “কেন প্রভা?” প্রভা অঞ্চলে মুখ লুকাইয়া বলিল “আমি প্রভা নই, আমি বি-বি-বিভা।” সে টলিতেছিল, পুলিন তাহাকে ধরিয়া ফেলিল, সে না ধরিলে বিভা বোধহয় পড়িয়া যাইত।