প্রতীক্ষায়।
খাটিয়ার পশ্চাতে একটা বৃহৎ ফরাশি-দেশীয় পুরাতন ঘড়ি ছিল, তাহাতে ঢং ঢং করিয়া বারটা বাজিল। বৃদ্ধা সতর্ক হইয়া উঠিয়া বসিল এবং দুই হাত দিয়া আমার একখানা হাত চাপিয়া ধরিল। আমি আশ্চর্য্যান্বিত হইয়া গেলাম। বলিতে ভুলিয়া গিয়াছি আহার শেষ হইলে দরজার ঝাঁপটা পুনরায় বাঁধিয়া দিয়াছিলাম।
এই সময় অট্টালিকায় উচ্চ-বাদ্যধ্বনি শুনিতে পাইলাম, তাহার পর মনে হইল বারান্দায় অনেক লোক চলিতেছে, একজন আসিয়া উপরে ও নীচে অনেক আলোক জ্বালিয়া দিয়া গেল। নীচে অনেক লোকের কথা শোনা যাইতে লাগিল। কোনও কথা স্পষ্ট বুঝিতে পারিলাম না, কিন্তু বোধ হইল যেন বিশেষ কোন সমারোহ ব্যাপার উপস্থিত। পরিচারকের চারিদিকে ছুটাছুটি করিতেছে, একজন পরুষকণ্ঠে তাহাদিগকে আদেশ করিতেছে। আধ ঘণ্টার মধ্যে গোলমাল থামিয়া গেল। তাহার পর বোধ হইল নিম্নতল হইতে চারিদিকের সিঁড়ি দিয়া অনেক লোক উপরে উঠতেছে, উপরে অন্যান্য লোকেরা তাহাদিগকে অভ্যর্থনা করিয়া বসাইতেছে। একবার ভাবিলাম স্বপ্ন দেখিতেছি। চক্ষু মুছিয়া ভাল করিয়া উঠিয়া বসিলাম, বৃদ্ধ আমার গা টিপিয়া আমাকে উঠিতে নিষেধ করিল।
বাহিরে বোধ হয় তখনও ঝড় থামে নাই। হঠাৎ একটা দম্কা বাতাস আসাতে ঝাঁপের দরজা পড়িয়া গেল, বাতাসে আলোক নিবিয়া গেল, তখন আমার মনে একটু ভয় হইল। মনে হইল যেন কয়েকজন লোক উপরে আসিতেছে। সত্যসত্যই চারিজন লোক ঘরে প্রবেশ করিল, তাহাদিগের একজনের হাতে একটা লণ্ঠন, তাহার ভিতরে একটা