সমস্ত জগতের এই কল্যাণের ভাবটি না অনুভব করিতে পারিলাম তবে আর কি হইল? আমরা মানুষ হইয়াছি, বুদ্ধি পাইয়াছি, সেই বুদ্ধি দ্বারা যদি এই কল্যাণকে না বুঝিলাম এবং এই কল্যাণের সঙ্গে মিল রাখিয়া কাজ করিতে না পারিলাম তবে বুদ্ধিই বৃথা গেল। গুরুদেব আমি এ সমস্তই বুঝিয়াছি। এখন আমাকে মনুষ্য সমাজে ফিরিয়া যাইতে হইবে। যেখানে আমার মত শত শত মানুষ রহিয়াছে, সেই গৃহস্থাশ্রমই জীবনের শ্রেষ্ঠ স্থান। তরুলতা পশুপক্ষী আমাদের করুণা না হইলে বাঁচিতে পারে—ঈশ্বরই উহাদিগকে নানা উপায়ে বাঁচাইয়া রাখিতেছেন কিন্তু মানুষ তো মানুষের ভালবাসা না পাইলে বাঁচেনা—সেই জন্য গৃহস্থাশ্রমই প্রধান আশ্রম—সেইখানেই মানুষের প্রধান কর্ত্তব্য। কত দুঃখ সহিয়া, সুখে না মাতিয়া, কত ধীরভাবে পরের মঙ্গল করিয়া সেখানে থাকিতে হইবে—সেইখানেই আমাদের প্রধান পরীক্ষা। কিন্তু গুরুদেব, আপনার কৃপায় আমি ব্রহ্মচারী হইয়াছি—আমার কোন ভয় নাই—আমি সেখানে গিয়া মঙ্গলে প্রতিষ্ঠিত থাকিতে
পাতা:গুরুদক্ষিণা - সতীশচন্দ্র রায় (১৯২২).pdf/৩২
অবয়ব
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গুরুদক্ষিণা
১০