বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গুরুদক্ষিণা - সতীশচন্দ্র রায় (১৯২২).pdf/৩৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

―একটি গর্ভিনী হরিণী তাঁর কাছে শুইয়া পড়িয়াছিল। উচ্চ সুরে টিট্টিভ পক্ষী “টিট্টিউ টিট্টিউ” এইরূপ শব্দ করিয়া কাছে কাছে উড়িয়া পড়িতেছিল। অশোকগাছটির আলবালে কতকগুলি ছোট ছোট পাখী নিশ্চিন্তমনে উড়িয়া উড়িয়া আসিয়া জল খাইতেছিল। সেখানকার পশুপক্ষীর মুখের ভাব দেখিলে মনে হয় যেন তাহারা মানুষের সঙ্গে কথাবার্ত্তা বলিবার নানারকম ইঙ্গিত জানে।

 উতঙ্ক গুরুপত্নীর পায়ে মাথা রাখিয়া প্রণাম করিলেন। উঠিয়া বলিতে লাগিলেন “মা আমার ব্রহ্মচর্য্যের কাল শেষ হইল। গুরুদেবের করুণায় আমি ব্রহ্মচারী হইয়াছি—আমি বললাভ করিয়াছি—এখন আমাকে গৃহে ফিরিয়া যাইতে হইবে—জননি, কি দক্ষিণা দিব আদেশ করুন,—গুরুদেব আপনার কাছেই জিজ্ঞাসা করিতে বলিয়াছেন।”

 গুরুপত্নী তাড়াতাড়ি আসন বোনা রাখিয়া দিয়া বলিলেন “বৎস, তুমি চলিয়া যাইবে?” ঋষিপত্নীর চক্ষু জলে ভরিয়া আসিল।

১৫