উতঙ্ক চলিয়া গেলে ঋষিপত্নী স্থির হইয়া বসিয়া ভাবিতে লাগিলেন “বৎস উতঙ্ককে দক্ষিণা আনিতে পাঠাইলাম—একাকী কত দূরপথ যাইবে! কিন্তু তাহাতে কি ভয়? গৃহাশ্রমে প্রবেশ করিবে তার পূর্ব্বে সতীর মহিমা একবার দেখিয়া লউক্। ব্রহ্মচারীর আবার কোথায় ভয়?” এইরূপ ভাবিতে ভাবিতে উতঙ্কের গভীর ভক্তি এবং নানাগুণের কথা ঋষিপত্নীর মনে পড়িতে লাগিল এবং যতই কেন মনকে প্রবোধ দিন্ না মন ব্যাকুল হইল—জননীর চোখ কেবলি জলে ভরিয়া আসিতে লাগিল।
এই সময়ে অন্যান্য শিষ্যগণ ভিক্ষার চালডাল লইয়া ফিরিয়া আসিল—কিন্তু কি আশ্চর্য্য! অন্যদিনের মত আজ আর তাহারা গোলমাল করিতেছে না। ঋষিপত্নী বালকগুলিকে এইরূপ বিষণ্ণ দেখিয়া তাড়াতাড়ি তাহাদের কাছে গিয়া তাহাদের দুঃখিতভাবের কারণ জিজ্ঞাসা করিলেন—সকলেই কাঁদো-কাঁদো স্বরে বলিল—“উতঙ্ক চলিয়া যাইবে!” তখন ঋষিপত্নী তাহাদিগকে সান্ত্বনা দিতে দিতে তাহাদের সঙ্গে রান্নার দিকে অগ্রসর হইলেন।