বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:গুরুদক্ষিণা - সতীশচন্দ্র রায় (১৯২২).pdf/৪৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
গুরুদক্ষিণা

প্রণাম করিয়া বিদায় লইলেন। উতঙ্ক আহ্লাদে দুই হাত তুলিয়া রাজাকে আশীর্ব্বাদ করিলেন এবং প্রতিহারীর পিছে পিছে অন্তঃপুরের দিকে অগ্রসর হইতে লাগিলেন।

 সন্ধ্যার অন্ধকারের মধ্যে চারিদিকে রাজবাড়ীর কক্ষে কক্ষে দীপ সকল জ্বলিয়া উঠিয়াছে। অগ্নিগৃহে বেদীর উপর রাঙামুকুট পরিয়া অগ্নিদেব জাগিয়া বসিয়াছেন—আরতির ঘণ্টা বাজাইয়া পৌষ্য সেখানে মন্ত্রপাঠ করিতেছেন।

 অন্তঃপুরে প্রবেশ করিয়া উতঙ্ক দেখিলেন উঠানে একটি বৃহৎ বকুলগাছ, তাহাতে অন্ধকার জমিয়া বসিয়াছে—চারিদিকে হর্ম্ম্যের জানালা হইতে আলো পড়িয়া তাহার পাতাগুলি দূর হইতে অত্যন্ত কালো এবং চক্‌চকে দেখাইতেছে। ঐ গাছটির মূলে একটি পুষ্ট গাভী দাঁড়াইয়া আছে। সুরভির শরীর পাটল কিন্তু সন্ধ্যায় কালো দেখাইতেছে—কপালের শ্বেত চন্দ্রকলাটি, পুচ্ছ ও ক্ষুরের কাছে শুভ্রতা গোধূলির মধ্যে বড়ই সুন্দর দেখাইতেছে। সুরভির শরীরে কেমন একটি সুগন্ধ যেন লাগিয়া রহিয়াছে—আঘ্রাণে শরীরে

২৬